টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দেন জনতা ব্যাংকের গ্রাহক আবদুল মালেক। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল মালেক নিজেই এ কথা স্বীকার করেন।
গত রবিবার দুপুরে ভূঞাপুর জনতা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সিঁড়ি দিয়ে নিচতলায় নামার সময় ১০ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশে অভিযোগ দেন ঘাটাইল উপজেলার মনোহারা গ্রামের আবদুল মালেক। এরপর পুলিশ টাকা উদ্ধারে অভিযান চালায়। তবে ঘটনাস্থল ভূঞাপুরের মৌরিন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ এর সত্যতা পায়নি। তাছাড়া টাকার মালিক মালেকের কথাবার্তায় অসংগতি ছিল। পরে পুলিশ মালেককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনাটি সাজানো বলে জানায়। মালেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাতে ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দির গনেশ মোড় এলাকায় তার মেয়ে রানীর ভাড়া বাসা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া ১০ লাখ টাকা গতকাল সোমবার দুপুরে গ্রাহক আবদুল মালেকের হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।
জনতা ব্যাংকের ভূঞাপুর শাখার ব্যবস্থাপক লুৎফর রহমান জানান, ব্যাংকের সিঁড়ির নিচ থেকে টাকা ছিনতাই ছিল সাজানো নাটক। ওই গ্রাহক তার প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এমন ঘটনা সাজিয়েছেন। এতে ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণœ করেছেন তিনি।
ভূঞাপুর থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘাটাইল উপজেলার আথাইলশিমুল এলাকার শাহ আলম নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসাতে আবদুল মালেক ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক করেছিলেন। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়ার ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত না হওয়ায় আবদুল মালেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মালেক ছিনতাইয়ের ঘটনাটি সাজানো বলে স্বীকার করেন। পরে মালেকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার মেয়ে রানীর ভাড়া বাসা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করে জনতা ব্যাংক ভূঞাপুর শাখায় জমা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।