২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ৩৫১ ইউনিয়ন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার ৮০ ইউনিয়নে গ্রাম আদালত বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এবার ৪২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ প্রকল্পে ৩১ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার বা ২৬৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউএনডিপি। স্থানীয় সরকার বিভাগের এ প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।
এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামের মানুষের বিচারিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনি সেবা দিয়ে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়ানো। নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন করা এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের একটি। সারা দেশের ৪ হাজার ৫৫৭টি ইউনিয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪ হাজার ৪৫৭টি ইউনিয়নের প্রথমবারের মতো বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রকল্পটির ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ প্রকল্পের পরামর্শক সেবাতেই ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে এ খাতেই। এ ছাড়া সারা দেশে সভা, সেমিনারে ব্যয় হবে ৩৫ কোটি, সাড়ে সাত হাজারটি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৬ লাখ ও এজলাস স্থাপন ও আসবাব ক্রয়ে ব্যয় হবে ২২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
১৭৩০ কোটির ৯ প্রকল্প অনুমোদন : একনেক সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প চারটি। বাকি পাঁচটি প্রকল্পই সংশোধিত। এই ৯ প্রকল্পে নতুন করে ১ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে ৯ প্রকল্পে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান হিসেবে দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, ইএনডিপি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংক।
গতকাল একনেক দশম সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রকল্পগুলোর মধ্যে জননিরাপত্তা বিভাগের একটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের একটি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি এবং জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রকল্প রয়েছে একটি।
একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, দেশে চলতি মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এ সময় চৈত্র মাস, কিছুটা খরা থাকে। এ ছাড়া রমজানের আগে মা-বোনেরা বাড়তি জিনিসপত্র কিনে মজুদ রাখেন। এর ফলে সরবরাহ ও মজুদে সমস্যা হয়। তবে আগামী এপ্রিল মাস থেকে এসব সমস্যা থাকবে না। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতিও কমবে।
মন্ত্রী বলেন, বাজার ঠিক রাখতে সরবরাহ বাড়িয়ে দেব। শুধু পুলিশ দিয়ে বা জেল-জরিমানা করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। কেউ মজুদ রাখলে আমরা সীমান্ত খুলে দেব। ওপারে মালামাল ট্রাক নিয়ে বসে আছে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে এমএ মান্নান আরও বলেন, রমজান সংযমের মাস। মা-চাচিরাও এ সময় মজুদদার হয়ে যান। রমজানে ১০ কেজি চিনি, ৫ কেজি তেল কিনে মজুদ রাখেন। ভোক্তাদের এই অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা। তাতে সরবরাহ এবং মজুদেও বড় সমস্যা হয়। রমজানে খাদ্যপণ্য মজুদ রেখে বাজারে
কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।