পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে পড়েছে ভিমের রড। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ধরেছে ফাটল। প্রায়ই ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে শিশু শিক্ষার্থীদের শরীরে। আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা একবার বইয়ের দিকে, একবার ছাদের দিকে তাকায়। এমন জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। তিনটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি স্টোররুমবিশিষ্ট একতলা ভবনটি প্রায় সাত বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষের অভাবে পরিত্যক্ত ওই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। যে কোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এমন আতঙ্কের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ হয়। পূর্বের স্থাপনা ভেঙে ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি শ্রেণিকক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু মানসম্মত কাজ না হওয়ায় ২২ বছরের মাথায় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এর মাঝে দুবার মেরামত করা হলেও ভবনের অবস্থা নাজুক।
সরেজমিন দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। বিমের অনেক জায়গায় রডও বেরিয়ে পড়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশে দুই কক্ষের আরেকটি একতলা ভবন আছে। সে ভবনের একরুমে অফিস এবং আরেক রুমে শিশু শ্রেণির ক্লাস চলে। টিনশেডের এক রুমের আরেকটি ঘর আছে, সেটিও পরিত্যক্ত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরকার বলেন, ‘২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার দাস মৌখিকভাবে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর মতো অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েকবার পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আহতের ঘটনাও ঘটেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে কমে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী নন অভিভাবকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক এবং ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নওয়াব আলী বলেন, ‘পরিত্যক্ত ঘোষিত ওই ভবন শ্রেণি কার্যক্রম চালানোর অনুপযুক্ত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও ঝুঁকির মধ্যে থাকি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহাদ মিয়া বলেন, ‘আমি ও ইউএনও মহোদয় সোমবার বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। আপাতত জরাজীর্ণ কক্ষে ক্লাস বন্ধ রেখে পাশের কক্ষে ক্লাস নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসাইন বলেন, ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবনের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয়েছে। নতুন ভবন বরাদ্দ এলে ওই বিদ্যালয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’