চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে বারবার এমন আশঙ্কা জানিয়ে আসছে পশ্চিমারা। এদিকে রাশিয়া শুরু থেকেই এসব আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে এ যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই দেশটির। চলমান যুদ্ধের এক বছর পার হওয়ার পরও রাশিয়া প্রচলিত অস্ত্রেই যুদ্ধ করছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য এবার ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ বা পারমাণবিক ছোঁয়াচ দেওয়া গোলা সরবরাহ করতে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী অ্যানাবেল গোল্ডি নিশ্চিত করেন ইউক্রেনকে চ্যালেঞ্জার-টু ট্যাংক দেওয়া হচ্ছে যেগুলোর গোলায় থাকবে ইউরেনিয়াম। শক্তিশালী এসব গোলা সামরিক বহরের বর্মভেদ করতে সক্ষম।
যুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ রাশিয়া। যদি ইউক্রেনকে ‘ডিপ্লেটেড’ ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ বর্মভেদী শেল সরবরাহ করা হয়, তাহলে মস্কো কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার অভিযোগ, ‘‘পশ্চিমারা ‘পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান’ সমৃদ্ধ অস্ত্র পাঠাচ্ছে।’’
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংকের সঙ্গে এ গোলা পাঠাবেই। উল্টো দেশটি এর পক্ষে সাফাইও গেয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই গোলায় ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম রয়েছে, কিন্তু এটির তেজস্ক্রিয়তা কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম হলো একটি আদর্শ উপাদান। পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই।’ রয়্যাল সোসাইটির বিজ্ঞানীরাও জানিয়েছেন, ‘ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়ামযুক্ত অস্ত্রের প্রভাব জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর খুবই কম।’
তবে যুক্তরাজ্য এরপক্ষে সাফাই গাইলেও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেনে যুক্তরাজ্যের ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম অস্ত্র পাঠানোর মানে হলো তারা ১৯৯৯ সালের যুগোশ্লাভিয়া আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করতে যাচ্ছে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই এ বিষয়টি লন্ডনের জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে।’
রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভায়াচেসলাভ ভলোদিন হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম গোলায় বিষাক্ত হবে রণক্ষেত্র, যা পরবর্তী প্রজন্মকেও বয়ে বেড়াতে হবে। শুধু তা-ই নয়, হয়তো এধরনের তৎপরতা ঠেকাতে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনে আমরাও বাধ্য হব।’
ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়ামের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল ইরাক ও বলকান অঞ্চলে। এরপর সেসব অঞ্চলে শিশু জন্মের ওপর প্রভাব পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম ইউক্রেনের পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ‘ডিপ্লেটেড ইউরেনিয়াম ও বিষাক্ত উপাদান সাধারণ বিস্ফোরকে ব্যবহার করা হলে এটি ত্বকের সমস্যা, কিডনি বিকল এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।