দুই যুগ কবরস্থানের খুপরি ঘরে বাস মালেছা বেগমের। সত্তর বছর বয়সী মালেছা খাতুন কখনো ভাবেননি কপালে জুটবে বসবাসের জমি ও ঘর। কবরস্থানের ওই খুপরিতেই দুই সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। দুঃখ দুর্দশাগ্রস্ত জীবনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ পাকা বাড়ি পেয়ে তার চোখে এখন আনন্দের অশ্রু।
গতকাল বুধবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মালেছা বেগমের হাতে দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক আবু নইম মোহাম্মদ মারুফ খান।
নরসিংদী শিলমান্দি ইউনিয়নের টেকপাড়া কবরস্থানে কয়েকটি টিন আর সিমেন্টের কাগজে জোড়াতালির জীর্ণ ঘরে দুই যুগ ধরে বাস করছেন মালেছা বেগম। মালেছার দুই সন্তান হাসিনা ও সুমন। বড় মেয়ে হাসিনার বিয়ে দিয়েছেন। এখন ছোট ছেলে সুমনকে নিয়ে এই ঝুপড়ি ঘরে বাস করছেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের জন্য আবেদন করেন। এর ধারাবাহিকতায় অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মালেছার মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো।
মালেছা বেগম বলেন, আমি ও আমার পরিবার ভূমিহীন। ২৫ বছর ধরে বাগহাটা এলাকার কবরস্থানের জায়গায় খুপরি ঘর বেঁধে বসবাস করে আসছি। আমার বাবার কবরও হয়েছে এখানে। অনেক কষ্টে দিন পার করছি। মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়েই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়েছি। জীবনেও ভাবিনি জমিসহ থাকার ঘর পাব। এত বছর আমার দিকে কেউ তাকায়নি। প্রধানমন্ত্রী আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। এ উপহার পেয়ে আমি খুবই খুশি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব তার জন্য দোয়া করব।’
গতকাল বুধবার নরসিংদীসহ ৭টি জেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে নরসিংদী উপজেলা সদর, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় পৃথকভাবে গৃহ হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে ৪র্থ ধাপে জেলার ৩৪টি স্থানে নির্মাণ করা ঘর আরও ৪৫৯ গৃহহীন পরিবারকে দলিলসহ ঘর হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে জেলায় ৪ ধাপে মোট ১১৬১ জন অসহায়, ভূমিহীন, গৃহহীন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২ শতাংশ জমিসহ আধাপাকা ঘর পেলেন। ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি তারা এখন নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্নও দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া মনোহরদীর শাহেদা বেগম বলেন, অন্যের জমিতে ছাপড়া বানিয়ে ছেলে মেয়েকে নিয়ে থেকেছি। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করেছি। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় স্থায়ী একটি ঠিকানা পেলাম। এজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।