সাবেক হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখনো যে ডোনাল্ড ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ তা তিনি নিজেই যেন মনে করিয়ে দিলেন। নিজস্ব মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ ট্রুথ সোশ্যালে হুট করে এক আশঙ্কা প্রকাশ করে রীতিমতো রিপাবলিকান শিবিরে শোরগোল তুলেছেন তিনি। ‘মঙ্গলবার আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে’ ট্রাম্পের দেওয়া এই উড়ো খবর এখনো বাস্তব হয়নি, অর্থাৎ গ্রেপ্তার হননি তিনি। কিন্তু রিপাবলিকান নেতা ও সমর্থকদের কাছে মৃয়মান হতে চলা ট্রাম্প যেন প্রত্যাবর্তন করলেন বেশ জোরেশোরে। তার সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক পেন্সসহ বড় নেতারা। কট্টর সমর্থকদের মাঝে সাড়া ফেলে দিয়েছে ট্রাম্পের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, এমনই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনের জন্য প্রচারণা শুরু করলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত শনিবার টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন ট্রাম্প। প্রচারণা শুরু হয় ‘জাস্টিস ফর অল’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে। টেক্সাসের ওয়াকোতে একটি বিমানঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হাজারো সমর্থকের সামনে তিনি পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে মুখ বন্ধে টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। বরং তার ব্যক্তি ও আর্থিক পরিসরে অশান্তি নিয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
ট্রাম্প ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলের সামনে যারা বিদ্রোহ করেছিল তাদের পক্ষ নিয়ে বলেন, সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হবে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে করা তদন্তকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প নিজের গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত দিয়ে সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমন কি তাকে গ্রেপ্তার করা হলে ‘মৃত্যু আর ধ্বংসের তাণ্ডব’ হবে এ রকম হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। যদিও শনিবার টেক্সাসের সমাবেশে তিনি এমন কিছু বলেননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন জানায়, শনিবার বিকেলে সমাবেশের আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক ট্রাম্প সমর্থক স্থানীয় বিমানবন্দরটির পিচঢালা পথে বসে পড়ে সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য অপেক্ষা করেন। সে সময় সমর্থকদের বেশ উৎসবের মেজাজেই দেখা গেছে, যেমনটা তাদের দেখা গিয়েছিল ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময়। হাজারো সমর্থককে দেখা গেছে ট্রাম্পের ছবি ও তাকে কেন্দ্র করে হওয়া বিভিন্ন প্রচার সামগ্রীর তাঁবুগুলোতে ভিড় জমাতে। অনেককেই এসব তাঁবু থেকে ‘ঈশ^র, বন্দুক এবং ট্রাম্প’ অথবা ‘ট্রাম্প জিতেছেন’ লেখা টিশার্ট কিনতে দেখা যায়।
পর্ন তারকাকে মুখ বন্ধ রাখতে ট্রাম্প অর্থ দিয়েছিলেন, এ অভিযোগের তদন্তকে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিন্দা করেন। বরাবরই বেফাঁস মন্তব্যের জন্য পরিচিত এ রিপাবলিকান নেতা বলেন, ‘‘ওয়াশিংটন ডিসির ‘অবিচার মন্ত্রণালয়ের’ পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশনায় নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আমার বিরুদ্ধে এমন একটি বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে, যেটি কোনো অপরাধ নয়, অপকর্ম নয়, কোনো শারীরিক সম্পর্কের ঘটনাও নয়।’’ একই মঞ্চে ফ্লোরিডার কংগ্রেসম্যান ম্যাট গায়েটজ ও জর্জিয়ার কংগ্রেসউইম্যান মারজেরি টেইলর গ্রিনও বক্তব্য রাখেন। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়া নিউ ইয়র্কে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি আলভিন ব্র্যাগের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। গ্রিন বলেন, ‘২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে জঘন্যভাবে অস্ত্রে পরিণত করে ট্রাম্পকে আক্রমণ করা হয়েছে।’
এদিকে গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প ও তার সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার উগ্র সমর্থকরা আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’