বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মুমতাজুল কারিম আর নেই। ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
‘বাবা হুজুর’ নামে সমধিক পরিচিত মাওলানা মুমতাজুল কারিম গত সোমবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আল কারিম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১৯ সাল থেকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ঢাকায় তার বড় ছেলে মাওলানা মাহমুদুল হাসান মুমতাজীর তত্ত্বাবধানে তার বাসায় থাকতেন।
১৯৮৪ সাল থেকে তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মরহুম চরমোনাইয়ের পীর শায়খ ইসহাক (রহ.)-এর জামাতা ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার বাদ আসর হাটহাজারী মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজ অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের বড় ছেলে তেজগাঁও রহিম মেটাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসান জানাজায় ইমামতি করেন। পরে তাকে মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাওলানা মুমতাজুল কারিম ১৯৪২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানার ডুলিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ এলাকার বটগ্রাম হামিদিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে ফেনীর শর্শদি মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে পটিয়া মাদ্রাসা থেকে সুনাম ও কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন।
১৯৬৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে যান। সেখানে জামিয়া আশরাফিয়া লাহোর থেকে তাফসির ও আদব (আরবি সাহিত্য) বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন। একই বছরে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগ দেন এবং মুসলিম শরিফের দরস দেওয়া শুরু করেন।
পরবর্তীতে ঢাকা আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদ্রাসায় সাত বছর মুহাদ্দিস হিসেবে খেদমত করে চট্টগ্রামের পটিয়া মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ পান। পটিয়া মাদ্রাসায় টানা সাত বছর সুনামের সঙ্গে হাদিসের দরস দেন তিনি। এ সময় পটিয়া থেকে প্রকাশিত ‘মাসিক আত তাওহীদ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জামিয়া হোসাইনিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে হাটহাজারীতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
হাটহাজারী মাদ্রাসায় অধ্যাপনাকালে শিক্ষক হিসেবে সবার মাঝে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের প্রতি তার অপরিসীম দরদ ও ভালোবাসার কারণে ছাত্ররা তাকে ‘বাবা হুজুর’ বলে সম্বোধন করতেন। তার মৃত্যুর খবরে আলেম সমাজে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাওলানা মুমতাজুল কারিম একজন লেখক ও গবেষক হিসেবে কওমি অঙ্গনে বেশ পরিচিত ছিলেন।
দৈনন্দিন ইসলাম ডেস্ক