নতুন করে ভোটার তালিকা করে আগামী মধ্য জুনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে আইনজীবীদের একাংশ। এ লক্ষ্যে ১৪ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বলা হয়েছে, পুনর্নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যক্রম চলবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দক্ষিণ হলে ‘সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির সদস্যবৃন্দে’র ব্যানারে একটি তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ, সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রথম দিনের ভোটে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা, হট্টগোল, হাঙ্গামা, ভাঙচূরের মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথম দিনেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। ঘোষিত ফলাফলে সাদা দলের সভাপতি প্রার্থী মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক পদে আবদুন নূর দুলালসহ কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টির সব কটিতে জয়ী হন তারা। আজ ৩১ মার্চ বর্তমান কমিটির (২০২২-২৩) মেয়াদ শেষে আগামী রবিবার নির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
গতকালের সভায় ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি বারে এ প্রশ্নটা তুলছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট বারের এ অবস্থা কী করে হলো? সুপ্রিম কোর্ট বারের দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যে যারা কলঙ্ক লেপন করেছে, তাদের সম্পর্কে শোকজ নোটিস দেওয়া যায়।’
উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই কলঙ্ক মুছে যাবে না। সেই কলঙ্ক মোছনের কাজটা অতি সত্বর প্রয়োজন বলে কি আপনারা মনে করেন না? যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে নির্বাচনের মাধ্যমে সেই সংকটকে আমাদের অতিক্রম করতে হবে এবং একটি স্বাধীন বার অ্যাসোসিয়েশন আমরা করব।’
সভায় অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদলকে সদস্য সচিব করে ১৪ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, গত ১৫ ও ১৬ মার্চ কোনো নির্বাচন হয়নি। ঘোষিত কমিটি বারের সংবিধান অনুযায়ী অপশন ফরম বিতরণ করে আগামী ১৫ মের মধ্যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ১৪ ও ১৫ জুন সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
সভায় আরও বলা হয়, ১ এপ্রিল থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার আগ পর্যন্ত বারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বারের অফিস অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ, বারের ব্যাংক হিসাবসহ রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি।