অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

গাজীপুরের শ্রীপুরে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর বরমী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল করেছে পরিষদের সাতজন সদস্যসহ ইউনিয়নবাসী।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের সাতখামাইর বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। মানববন্ধনে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ খন্দকার বলেন, তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে ৫০ লাখ টাকার আটটি ভুয়া প্রকল্পের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং দুর্নীতির শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা জনসাধারণকে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সুমন আহমেদ বলেন, আমরা সাতজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর বরমী ইউপির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের একটি মাত্র ওয়ার্ডে ভুয়া আটটি প্রকল্প দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরপর বিষয়টি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্তে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে মর্মে ৮৬ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে, ইউনিয়নের স্থাবর স¤পত্তি হস্তান্তর করের ১% রাজস্ব ব্যয়ের মাধ্যমে শুধু একটি ওয়ার্ডে সব প্রকল্প দেখিয়ে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ শেষ না করেই কী পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এতে সরকারের কী পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে।

এদিকে চেয়ারম্যানের দুর্নীতি প্রকাশের পর প্রতিবাদ জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে তার সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণা দেন। প্রায় ছয় মাস ধরে সাতজন ইউপি সদস্য পরিষদে না গিয়ে বিভিন্ন দোকান কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগের বিষয়ে গতকাল ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।