টর্নেডোর তাণ্ডবে সদা তটস্থ জনপদ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ও ধ্বংসাত্মক হলো টর্নেডো। দেশটির ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য বলছে, প্রতি বছর গড়ে ৮০০ টর্নেডো আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের হিসাবে প্রতি বছর আঘাত হানে গড়ে ১১০০ টর্নেডো। আর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা, কানসাস, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, আইওয়া এবং সাউথ ডাকোটা অঞ্চলে। সবচেয়ে বেশি টর্নেডো আক্রান্ত এ অঞ্চলকে বলা হয় টর্নেডো অ্যালি।

প্রতি বছর মার্চ থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলে নিয়মিত আঘাত হানে প্রলয়ংকরী টর্নেডো। এ বছরও টর্নেডোর তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এসব এলাকায়। গত শুক্রবার তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিকে সঙ্গী করে আঘাত হানা শক্তিশালী টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ। পূর্বদিকে এগিয়ে চলা শক্তিশালী এ টর্নেডোতে এরই মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরকানসাস, টেনেসি, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, অ্যালাবামা ও মিসিসিপি সব রাজ্যেই মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। শুক্রবারের প্রচণ্ড গতির টর্নেডোটি পুরো রাজ্যকে এলোমেলো করে দেয়। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, ৬০টিরও বেশি টর্নেডোর খবর রেকর্ড করা হয়েছে।

রয়টার্স লিখেছে, প্রচণ্ড গতির টর্নেডোগুলো আরকানসাসের অনেক ভবনের ছাদ ও দেয়াল এফোড়-ওফোড় করে ফেলে। টর্নেডো থেকে জীবন বাঁচাতে ঘরের একেবারে নিচতলা কিংবা বাইরে বানানো টর্নেডো বাংকারে।

গ্রীষ্মে সমুদ্রপাড়ের দেশগুলোতে প্রায়ই সাইক্লোন, টাইফুন আঘাত হানে। আর যুক্তরাষ্ট্রে এ সময় আঘাত হানে টর্নেডো। প্রচণ্ড শক্তিশালী ঝড়টি তৈরি হয় অনেকটা কালবৈশাখীর নিয়ম মেনে। সমুদ্র থেকে গরম জলীয় বাষ্প ভরা বাতাস সমতলে ঢুকে ক্রমেই ওপরের দিকে উঠতে থাকে। একসময়ে তা ঠা-া বাতাসের সংস্পর্শে চলে আসে। আর তার থেকেই তৈরি হয় উল্লম্ব মেঘ। উল্লম্ব মেঘ উচ্চতায় বাড়তে থাকে এবং একসময় সেই মেঘ ভেঙে গিয়ে তৈরি হয় কালবৈশাখী। টর্নেডো তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটাও প্রায় একই রকম। তবে এ ক্ষেত্রে বায়ুপ্রবাহের জটিলতায় দীর্ঘকায় উল্লম্ব মেঘের ভেতরে ঘূর্ণি তৈরি হয়। সেই ঘূর্ণি একটি সরু ফানেলের আকারে (মনে হয় যেন হাতির শুঁড়) নেমে আসে মাটির কাছাকাছি। আর মাটি ছুঁয়েই সেই দৈত্যাকৃতি ঘূর্ণমান ফানেল তার কেন্দ্রের দিকে সবকিছু টেনে নেয়।