ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিনের আদেশ দেন। রমনা থানার এ মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন বলে আদেশে উল্লেখ করে আদালত। এরপর জামিননামা কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানোর পর সন্ধ্যায় তিনি মুক্তি পান।
শামসুজ্জামানের জামিনের শুনানি করেন আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার। এ সময় আরও ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুল হক, আশরাফ-উল-আলম, চৈতন্য চন্দ্র হালদার, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধীতা করে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু। এই মামলায় গত রবিবার হাইকোর্টে ভার্চুয়ালি হাজির হয়ে জামিন চান প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিনের আদেশ দেন।
বিকেলে সাংবাদিক শামসুজ্জামানের জামিনের সংবাদ পেয়ে তার কারামুক্তির অপেক্ষায় কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে সংবাদকর্মী, প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্য, শামসুজ্জামানের স্বজনরা জড়ো হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কারামুক্ত হয়ে প্রধান ফটকের বাইরে আসেন শামসুজ্জামান। এ সময় প্রথম আলোর উপ-সম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, প্রথম আলোর বিশাল বাংলা ডেস্কের বিভাগীয় সম্পাদক তুহিন সাইফুল্লাহ, পত্রিকাটির প্রশাসন বিভাগের প্রধান উৎপল কুমার চক্রবর্তী ও প্রথম আলোর কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি ইকবাল হোসেন তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকেলে সাংবাদিক শামসুজ্জামানের জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। সেগুলো যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলো অনলাইনের একটি প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়। এতে দিনমজুর জাকির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করা হয়। এতে ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব’ এমন উদ্বৃতি দেখা যায়। উদ্ধৃতিদাতা হিসেবে দিনমজুর জাকির হোসেনের নাম থাকলেও ছবিটি ছিল এক শিশুর। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে প্রথম আলো। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশোধনী দিয়ে প্রতিবেদনটি অনলাইনে প্রকাশ করে তারা।
এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হেয় প্রতিপন্ন করে মিথ্যা ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে গত ২৯ মার্চ রাতে রাজধানীর রমনা থানায় আইনজীবী আব্দুল মালেক (মশিউর মালেক) এ মামলাটি করেন। এতে মতিউর রহমানসহ সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান, সহযোগী ক্যামেরাম্যানসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করেন বাদী। শামসুজ্জামানকে গত বুধবার ভোররাতে সিআইডি পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ৩০ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাকে হাজির করা হয়। ওই দিন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন শামসুজ্জামানের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শামসুজ্জামানকে ওই দিন আদালত থেকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর শনিবার আবার তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন চেয়ে আবারও আবেদন করেন শামসুজ্জামান। একই অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা রয়েছে।