জাপানি সংস্কৃতিতে মাসামুনে তরবারির এক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। সূক্ষ্ম ও কারুকার্যময় এই তরবারি একসময় সামুরাই যোদ্ধারা ব্যবহার করত। ১৩ শতকের কিংবদন্তি এই তরবারির গল্প টোকিওর মিজেরি থানায় ১৯ শতকের মাঝামাঝি এসে শেষ হয়। মাসামুনে তরবারির ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা নিয়ে লিখেছেন নাসরিন শওকত
হনজো মাসামুনের নির্মাতা
সূক্ষ্ম তরবারি নির্মাণ করে এমন একাধিক জাতি রয়েছে জাপানে। ১৩ শতকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ তরবারি নির্মাতা ছিলেন গোরো নুইয়োদো মাসামুনে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত তরবারি হলো হনজো মাসামুনে। অতি সূক্ষ্ম ও কারুকার্যে অতুলনীয় হনজো মাসামুনেকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তরবারিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি একটি তাচি (সামন্ত যুগে সামুরাই যোদ্ধারা ঐতিহ্যগতভাবে যে তরবারি ব্যবহার করত) ধরনের অস্ত্র, যা পরে কাতান নামে পরিচিত হয়। একক ধারওয়ালা এই তরবারিটির একটি লম্বা হাতল রয়েছে, যা দুই হাত দিয়ে ধরে রাখতে হয়। ১৯৪৫ সালে হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি এই তরবারি জাপানের ইতিহাসের অন্যতম রহস্য হয়েই রয়ে গেছে আজও।
নুইয়োদো মাসামুনেকে জাপানের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ তরবারি নির্মাতা বলা হয়ে থাকে। ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধাতুবিদ্যাবিশারদও বলা হয় তাকে। ৭৬৩ বছর আগে বেঁচেছিলেন এই কিংবদন্তি (তার জীবনকাল ছিল আনুমানিক ১২৬০ থেকে ১৩৪০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)! ধারনা করা হয়, ১২৬৪ সালের দিকে জাপানের রাজধানী টোকিওর ঠিক দক্ষিণে উপকূলীয় অঞ্চল কানাগাওয়ার আবাসিক এলাকায় মাসামুনের জন্ম। তবে তার জন্ম ও মৃত্যুর সঠিক তারিখ অজানা। জাপানের সামুরাই তরবারির ইতিহাস নিয়ে লেখা বই কোতো মেইজুকুশি তাইজেন অনুসারে, গোরো নুইয়োদো মাসামুনে বুনেই যুগের (১২৬৪ খ্রিস্টাব্দ) প্রথম বছরে জন্ম নেন এবং কুয়েই যুগের (১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দ) দ্বিতীয় বছরে ৮১ (উৎসটিতে একটি গাণিতিক ত্রুটি রয়েছে) বছর বয়সে মারা যান তিনি। শু যুগে (১২৮৮-১২৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) মাসামুনের বয়স ছিল ২৫ এবং কেনমু যুগে (১৩৩৪-১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত তার বয়স হয় ৭০। মাসামুনের যখন ৭৫ বছর বয়স, তখন তিনি মিনো প্রদেশে আসেন এবং ৭৭ বছরে তিনি কামাকুরায় ফিরে যান।
কিংবদন্তি এই তরবারি নির্মাতার জন্ম নিয়েও বেশ দ্বন্দ্ব রয়েছে। মাসামুনে ইউকিমিতসুর দত্তক নয়তো নিজের ছেলে ছিলেন। সম্ভবত শিনতোগো কুনিমিতসু ও সাবুরো কুনিমুনের শিষ্য ছিলেন তিনি। মাসামুনে তার দীর্ঘ জীবনে অসংখ্য তরবারি নির্মাতাকে অত্যাধুনিক সাগামি কৌশল শিখিয়েছিলেন। এদিকে তরবারি নির্মাণের কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন ও এর ঐতিহ্যের বিকাশে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও জানা যায়। কিছু উৎস উল্লেখ করে যে, মাসামুনে জন্মের সময় পারিবারিকভাবে ‘ওকাজি গোরো’ বা ‘ওকাজিমা’ পদবি পান।
আধুনিক জাপানে ‘মাসামুনে’ নামটি মানসম্পন্ন নানা তরবারির এক প্রতিশব্দ ও সর্বোচ্চ স্তরের কারুকার্যময় অভিব্যক্তি হয়ে উঠেছে। জাপানে মাসামুনেকে চেনে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এমনকি যারা তরবারির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত নয়, তারাও তাকে চেনেন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, মাসামুনে জাপানের খ্যাতনামা ও কিংবদন্তি তরবারি নির্মাতাদের ওস্তাদ হওয়া সত্ত্বেও প্রাচীনকাল থেকেই তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অমীমাংসিত নানা রহস্য। জাপানের ইতিহাসে আর কোনো তরবারি নির্মাতার জীবন ও কাজ নিয়ে এত বই ও প্রবন্ধ লেখা হয়নি। এমনকি এত গবেষণায়ও হয়নি, যা তাকে নিয়ে হয়েছে। সবাই ধরেই নেয় যে, অন্য ওস্তাদদের চেয়ে মাসুমুনে সম্পর্কে আমরা সবকিছুই জানি। ক্ষেত্র বিশেষে এমনও হয় যে, এই ওস্তাদের জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয় জানারও দাবি করেন তারা। সমাজের কাছে এত কদর থাকা সত্ত্বেও, মাসামুনের সৃজনশীল কর্মকা- সম্পর্কিত অনেক জটিল ও অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ বর্তমানে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তার বিষয়গুলোর ওপরে যেন অদৃশ্য কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মাসামুনেকে নিয়ে নানা তত্ত্ব ও প্রচলিত। এর মধ্যে একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, ইতিহাসে মাসামুনেকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তার তেমন কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তার সময়ের ইতিহাসবিদ ইমামুরা চোগা (১৮৩৭-১৯১০ সাল) জোরালোভাবে মৌলিক এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ও এর সপক্ষে প্রমাণ দেখান। এদিকে স্বনামধন্য কয়েকজন গবেষকের মধ্যে উদিচা সোতেন (১৮৭১-১৯৫২ সাল) অনেক ক্ষেত্রেই ইমামুরার সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মেইজি যুগে এই তত্ত্বের আলোচনা জোরালো হয়ে ওঠে। তখন এ নিয়ে ইমামুরা চোগা ও হোনামি তাদাতাকারের মধ্যে গুরুতর বিরোধ বাধে। আলোচনায় উভয়পক্ষই আর্কষণীয় সব যুক্তি দেন এবং সেখানে তারা সাগামি স্কুলের মহান ওস্তাদদের সৃজনশীলতার তুলনায় মাসামুনের আদর্শের ইতিহাস অল্পবিস্তর পুনরায় তুলে ধরেন। এই বিতর্কের বিষয়গুলো সাগামি স্কুলের বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যেতে পারে। সুতরাং সাগামি স্কুলের ওস্তাদদের কাজ জানার জন্য এই ইতিহাসবিদদের বিতর্ক ও বিশ্লেষণ জানা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে কিংবদন্তি মাসামুনের ক্ষেত্রে।
সূক্ষ্মতম ধার ও সৌন্দর্যের কারণে মাসামুনের নির্মিত তরবারিগুলোর মান কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছিল। এর মধ্যে একজন বিখ্যাত কিংবদন্তি মাসামুনের নির্মাণ দক্ষতার একটি প্রমাণ তুলে ধরেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, মাসামুনের শিষ্য ছিল মুরামাসা। কে সেরা তরবারি নির্মাণ করতে পারে, একবার তা নিয়ে ওস্তাদ মাসামুনেকে নাকি চ্যালেঞ্জ করে বসেছিলেন মুরামাসা। এই চ্যালেঞ্জের বিষয়টি জাপানের পৌরাণিক গল্পের চেয়েও বেশি কিছু মনে হয়। কারণ জানা যায়, মুরামাসার জন্ম হয়েছিল সম্ভবত ১৫ শতকের শেষের দিকে। কিন্তু তারপরও এমন গল্প জাপানের সংস্কৃতির অংশ হয়ে আছে। ওই কিংবদন্তি অনুযায়ী, তৈরির পর প্রতিযোগিতার জন্য ওস্তাদ ও শিষ্য দুজনের তরবারিই নদীতে নিয়ে যাওয়া হলো। মুরামাসার তরবারির নাম ছিল ‘জুচি ইয়োসামু’ বা ‘১০,০০০ কোল্ড নাইটস’, যা নদীর পানি কেটে যাওয়ার সময় সামনে যা পেয়েছে তাই কেটে চলেছে। এদিকে মাসামুনের তারবারির নাম ‘ইয়াওয়ারাকাইতে’ বা ‘টেন্ডার হ্যান্ডস’। তার তরবারি এমন যে, তা নদীর মাছকে বাঁচিয়ে শুধু পাতা কেটে চলেছে। এ সময় শিষ্য মুরামাসা ওস্তাদকে তিরস্কার করে বলল, তার (মাসামুনের) তরবারি নিকৃষ্ট। কিন্তু নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে এই প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছিলেন বিচারক এক সন্ন্যাসী। প্রতিযোগিতা শেষে তিনি মাসামুনের তরবারিকেই সূক্ষ্মতম বলে ঘোষাণা দেন। আর মুরামাসার তরবারিকে রক্তপিপাসু ও অশুভ তরবারি বলে বর্ণনা করেন। পরবর্তী সময় মুরামাসা নিজেকেই একজন হিংস্র ও ভারসাম্যহীন মনের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যা তার তরবারির ব্লেডের তীক্ষ্মতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছিল। অন্যদিকে নির্মাতা হিসেবে মাসামুনে ছিলেন একজন ধীরস্থির, শান্ত ও প্রতিভাধর মানুষ, যিনি কাজের নৈপুণ্যে নিজেকে পুরোপুরি নিবেদিত করেছিলেন।
হনজোর দীর্ঘ যাত্রা
বিখ্যাত মাসামুনে সামুরাই তরবারি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানতে চাওয়া প্রশ্নের একটি হলো, ‘মাসামুনে কী দিয়ে তৈরি?’ জানা যায়, এটি সম্পূর্ণরূপে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হতো। মাসামুনে নির্মাণ কৌশল অনুযায়ী, শক্ত ও নরম ইস্পাতের মিশ্রণকে কৃত্রিমভাবে স্তরের পর স্তরে বসিয়ে তরবারির আকার দেওয়া হয়। তারপর সেটি উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানোর মধ্য দিয়ে সবশেষ স্তরকে সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও তীক্ষè করা হতো। এই তরবারির অগ্রভাগ ছিল পরমাণু কণার সমান পুরু।
১৬ শতকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। ধারণা করা হয়, হনজো মাসামুনে নামটি এসেছে হনজো শিগেনাগা নামের এক জাপানি যোদ্ধার নাম থেকে। হনজো শিগেনাগা ছিলেন তখনকার উয়েসুগি বংশের একজন জেনারেল। ১৫৬১ খ্রিস্টাব্দে শিগেনাগার সঙ্গে উমানোসুকে নামের এক বিখ্যাত যোদ্ধার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধক্ষেত্রে উমানোসুকের তরবারির আঘাতে তার শিরস্ত্রাণ টুকরো হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিগেনাগা পাল্টা আক্রমণ চালান ও প্রতিপক্ষ উমানোসুককে হত্যা করেন। পরে তরবারিটিকে লুটের মাল হিসেবে নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। হনজো তরবারি এর আগেও অনেক বিখ্যাত যুদ্ধে ব্যবহার হয়েছিল বলে জানা যায়।
পরবর্তীকালে জেনারেল শিগেনাগা অর্থাভাবে মাত্র ১৩ ওবানে (সেই সময়ের জাপানি স্বর্ণ মুদ্রায়) তরবারিটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এরপর সেটি জাপানের তখনকার শাসকের চাচাত ভাই কুখ্যাত তয়োতমি হিডেটসুগু ১ হাজার ওবানের বিনিময়ে কিনে নেন। তয়োতমি বংশের পতন ঘটলে সপ্তদশ শতাব্দীতে তরবারিটি তকুগাওয়া ইয়েৎনাজারোংয়ের দখলে চলে যায়। জাপানের ‘শগুন’ শাসনামলের অন্যতম শাসক ছিল এই তকুগাওয়া পরিবার। তরবারিটিকে এই পরিবারের একাধিক শাসকের শাসনের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এভাবেই হাত বদল হয়ে মাসামুনে তরবারি কমপক্ষে ২৬০ বছর পর্যন্ত তকুগাওয়া পরিবারের কাছেই ছিল। তকুগাওয়া পরিবারের শাসনামল শেষ হওয়ার পরও তরবারিটি তারা নিজেদের কাছে রেখে দেয়। তবে চূড়ান্ত রেকর্ড অনুসারে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত তরবারিটির মালিক ছিলেন রাজনীতিবিদ তকুগাওয়া ইয়েমাসা।
জাপানে মার্কিনিরা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে। মার্কিন বাহিনী জাপান দখল করলে আত্মসমর্পণ করে জাপানিরা। এরপরই তারা জাপানি পরিবারগুলোকে তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে পারিবারিক উত্তরাধিকার ও প্রাচীন সামুরাই তরবারিও ছিল। এই তরবারিরই একটি ছিল হনজো মাসামুনে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই তকুগাওয়ার হারানো তরবারি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। তখন জাপানি এই পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অস্ত্রের বেশির ভাগই ধ্বংস করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু মার্কিন সেনাদের দেওয়া হয় এবং বাকিগুলো টোকিও উপসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৩৯ সালে হনজো মাসামুনেকে জাপানের জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে তকুগাওয়া পরিবার উল্লেখযোগ্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়। এই পরিবারের পক্ষ থেকে তকুগাওয়া ইয়েমাসা ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরে জাপানের মেজিরো পুলিশ স্টেশনে গিয়ে হাজির হন। সেখানে হনজো মাসামুনেসহ আরও ১৪টি তরবারি জমা দেন তিনি। এর পর থেকে তরবারিটির আর কোথাও দেখা যায়নি।
মাসামুনে তরবারি এখন কোথায়
এই প্রশ্নের উত্তর খুব সাধারণ। কেউ জানে না সেটি কোথায় আছে। মেজিরো পুলিশ স্টেশনে হনজো মাসামুনেসহ ১৪টি তরবারি জমা দেওয়ার এক মাস পর পুলিশ এই তরবারিগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক বা এএফডব্লিউইএসপিএসির ফরেন লিকুইডিশন কমিশনের এক প্রতিনিধির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। রেকর্ডে ওই প্রতিনিধির নাম ছিল সার্জেন্ট কোল্ডি বাইমোর। সেই থেকে এই তরবারিটির আর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এএফডব্লিউইএসপিএসিতে তখন সার্জেন্ট কোল্ডি বাইমোর নামে কেউ ছিলেন না। এমনকি এই নামে ওই বাহিনীতে কখনই কেউ ছিল না।
এরই মধ্যে কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৬টি বছর। ২০১৩ সালের কথা। তখন একটি হারিয়ে যাওয়া মাসামুনে তরবারি জাপানের কিয়োটো জাতীয় জাদুঘরে আনা হয়। এ নিয়ে জাদুঘরের সবার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা আসেন এবং তরবারিটিকে সত্যিকারের মাসামুনে তরবারি হিসেবে প্রমাণ করেন। আসলে এটি ছিল শিমাজু মাসামুনে, তকুগাওয়া শগুনাতের ১৪তম শগুনের সঙ্গে রাজকুমারী কাজুনোমিয়ার বিয়েতে দেওয়া তকুগাওয়া পরিবারের পক্ষ থেকে উপহার ছিল তরবারিটি। জাপানের এমন হারিয়ে যাওয়া অনেক বিখ্যাত তরবারির মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ছিল হনজো মাসামুনে। জাপানিরা এখনো আশাহত হয়নি। তাদের বিশ্বাস, হয়তো শিমাজু মাসামুনের মতো অদূর ভবিষ্যতে হনজো মাসামুনেকেও ফিরে পাওয়া যাবে। তবে মাসামুনে তরবারির রহস্য যতই অমীমাংসিত থাকবে, ততই এটি কিংবদন্তি হয়ে উঠবে।