রমজানের প্রথম সপ্তাহে মক্কার মসজিদে হারাম ও নববিতে দুই কোটির বেশি মুসল্লি সমবেত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হেেয়ছে। সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনে পবিত্র মসজিদে নববিতে এক কোটির বেশি মুসল্লি ও দর্শনার্থী এসেছেন। এই সময়ে পবিত্র রওজা শরিফে এসেছেন ছয় লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৩ জন।
সৌদি গেজেট জানায়, রমজানের প্রতিদিন মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে ইফতার দেওয়া হয়। রমজানের প্রথম ১০ দিনে মসজিদে নববিতে ২৩ লাখের মতো ইফতার সামগ্রী এবং ১০ লাখ জমজম পানির বোতল বিতরণ করা হয়েছে।
পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করছেন বিপুল পরিমাণ মুসল্লি। বিপুল সমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে নারী ও পুরষদের জন্য পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রমজান মাসের শুরু থেকে ১৯তম দিন পর্যন্ত সবার জন্য তা উন্মুক্ত থাকবে। এসব দিনে পুরুষরা রাত আড়াইটা থেকে ফজর নামাজ পর্যন্ত এবং সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত রওজা শরিফ জিয়ারত করতে পারবে। আর নারীরা ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত এবং রাত ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত জিয়ারত করতে পারবে।
আরব নিউজের অন্য এক প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহে পবিত্র মসজিদে হারামে প্রায় এক কোটি মুসল্লি নামাজ ও ওমরাহ পালন করেছে। মক্কা ও মদিনার প্রবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মক্কার পবিত্র মসজিদে হারামে ৯৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫৩ জন নামাজ পড়েছে এবং ওমরাহ পালন করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৬০টি জমজম প্যাকেজ ও পুস্তিকা বিতরণ করা হয়।
তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সেবা গ্রহণ করে দুই লাখ ৪৯ হাজার ৯০৬ জন এবং ৯ হাজার ৪৯৭ তরুণ দর্শকের হাতে ব্রেসলেট বিতরণ করা হয়। ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৯ জনকে বিভিন্ন ভাষায় স্থানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনের পরিকল্পনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেনারেল প্রেসিডেন্সি বিভাগের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। তিনি বলেন, হারাম শরিফে আগত প্রায় কোটি মুসল্লিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিষ্ঠাপূর্ণ কর্মতৎপরতার কারণে প্রশাসনিক ও মাঠ পর্যায়ের এই বিশাল সংখ্যক মুসল্লিকে সেবা দেওয়া হয়।