ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে রিনা খাতুন(২৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পু্লিশ। শুক্রবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, শরীর খারাপ লাগার কথা বলে একমাত্র মেয়ে তোফামণিকে তার ফুফুর কাছে রেখে ঘরের দরজা বদ্ধ করে দেন গৃহবধূ রিনা। মেয়ে ঘণ্টা খানিক খেলাধুলা করে ফিরে এসে মাকে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন। অনেক ডাকাডাকি করেও শিশুটির মা রিনার সাড়াশব্দ না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯- এ কল দেন বাড়ির লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে ঝুলতে থাকা লাশ উদ্ধার করে।
গৃহবধূ রিনা পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার মেয়ে। সাত বছর আগে হাবিবুর রহমানের ছেলে সোহাগ মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা তোফামণির বয়স আড়াই বছর।
রিনার শ্বশুর হাবিবুর রহমান জানান, গত ছয় থেকে সাত মাস ধরে তার পুত্রবধূ রিনার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও শরীর জ্বালা-পোড়া করতো। অনেক ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। তার ধারণা মাথা ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন রিনা।
রিনার বাবা দুলাল মিয়া বলেন, মারা যাওয়ার আগের রাতেও তিনি মেয়েকে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছিলেন। এর পর কীভাবে তার মেয়ে মারা গেলেন সেটা জানেন না।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।