ন্যাটোতে ফিনল্যান্ড যোগ দেওয়ার নেপথ্যে

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর সুইডেনকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আবেদন করে ফিনল্যান্ড। সম্প্রতি তুর্কি পার্লামেন্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে। ন্যাটোর ৩১তম সদস্য এখন এই দেশটি। পশ্চিমা সামরিক এই জোটে ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা। লিখেছেন নাসরিন শওকত

ন্যাটো কী

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় ইউরোপে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পশ্চিমা এক সামরিক জোট সৃষ্টির চিন্তাভাবনা শুরু হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৪৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মোট ১২টি দেশ একজোট হয়ে গড়ে তোলে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন) ন্যাটো। যুক্তরাষ্ট্রসহ এই প্রতিরক্ষা জোটের ১২ সদস্য দেশগুলো ছিল যুক্তরাজ্য, কানাডা, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং পর্তুগাল।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় সামরিক আগ্রাসন রোধ করাই ছিল ন্যাটো প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। এর সম্প্রসারণ একটি চলমান ও গতিশীল প্রক্রিয়া। ১৯৫২ সালে এই জোটের প্রথম সম্প্রসারণে যোগ দেয় গ্রিস ও তুরস্ক। ১৯৫৫ সালে পশ্চিম জার্মানি যোগ দেয় এতে। এর প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের সাতটি দেশসহ মোট আট জাতি মিলে ‘ওয়ারশ চুক্তি’ গঠন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে ১৬তম দেশ হিসেবে স্পেন যোগ দেয় ন্যাটোতে। ১৯৯১ সালে বিশ্বকে হতবাক করে দিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে, যার নতুন নাম হয় রাশিয়া ফেডারেশন (সংক্ষেপে রাশিয়া)। এতে ওয়ারশ চুক্তি বিলুপ্ত হয়। এরপরই সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্র থাকা পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশকে ন্যাটো সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জোটটি ১৯৫২, ১৯৫৫, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯, ২০১৭, ২০২০ এবং সবশেষ ২০২৩ এই নয় দফায় সম্প্রসারণ হয়েছে। সবশেষ এ বছরের ৪ এপ্রিল ৩১তম সদস্য হিসেবে এ জোটে যোগ দিয়েছে ফিনল্যান্ড। এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা ১২ সদস্য রাষ্ট্র থেকে ৩১ সদস্যে উন্নীত হয়েছে ন্যাটো।

ন্যাটোর সদস্যভুক্ত কোনো দেশ আক্রমণের শিকার হলে অন্য সদস্যরা একে অপরকে সহযোগিতা করতে বাধ্য। কারণ ন্যাটো সনদের পঞ্চম অনুচ্ছেদে (আর্টিকেল ফাইভ) বলা আছে, ন্যাটো সদস্যভুক্ত কোনো দেশের ওপর আক্রমণ পুরো ন্যাটোর ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর অর্থ ফিনল্যান্ডের ওপর যদি কোনো আঘাত আসে বা ফিনল্যান্ড যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব ন্যাটোভুক্ত দেশ হেলসিঙ্কিকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবে।

এদিকে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর ন্যাটোয় অন্তর্ভুক্তি তার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই মস্কো তার নিকটতম প্রতিবেশী ইউক্রেনের এই জোটে যোগদানের অনুরোধেও তীব্র বিরোধিতা করেছে। কারণ তাদের আশঙ্কা, এমন কিছু ঘটলে রাশিয়ার ভূখ- বেদখল হয়ে পড়বে।

ফিনল্যান্ড কেন ন্যাটোতে

১৯৪৮ সালের কথা। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এক ‘বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তি’ সই করে ফিনল্যান্ড। এই চুক্তির অংশ হিসেবেই সেই সময় থেকে নিরপেক্ষ থাকার নীতি অনুসরণ করে আসছিল দেশটি। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলে, পশ্চিমা এই জোটের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয় ফিনল্যান্ড। এর ছয় বছরের মাথায় ১৯৯৪ সালে শান্তি কর্মসূচির আওতায় ন্যাটোর ‘আনুষ্ঠানিক অংশীদার’ হয়ে ওঠে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। ওই বছরই তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নেও যোগ দিয়েছিল। স্নায়ুযুদ্ধ থেকেই ন্যাটোর নানা মিশনেও অংশ নিয়ে আসছে দেশ দুটি। এরই মধ্যে কেটে গেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায়। এই হামলা শুরুর পরপরই ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। দেশ দুটির আগ্রহের কথা বিবেচনায় নিয়ে সামরিক এই জোটটিও যত দ্রুত সম্ভব তাদের (ফিনল্যান্ড ও সুইডেন) ন্যাটোতে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কোনো দেশকে ন্যাটোর সদস্য হতে গেলে তার সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজন পড়ে। সে দিক থেকে পূর্ব ইউরোপের এই দেশ দুটিও সামরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে নেই। আইএসএস মিলিটারি ব্যালান্স ২০২২-এর এক পরিসংখ্যান মতে, ফিনল্যান্ডের মোট সামরিক সেনার সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে নিয়মিত সেনার সংখ্যা ১৯ হাজার ২৫০ জন এবং সংরক্ষিত ২ লাখ ৩০ হাজার জন। এদিকে ফিনল্যান্ডের সামরিক সরঞ্জামের সংখ্যাও কম নয়। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি প্রধান যুদ্ধট্যাঙ্ক, ১০৭টি যুদ্ধজাহাজ, ১৯টি হেলিকপ্টার, ৬১৩টি সাঁজোয়া সেনা যান এবং ৬৭৭টি কামানও। ফিনল্যান্ড তার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৫০ নিয়মিত ও সংরক্ষিত সৈন্য এবং ১০৭টি যুদ্ধবিমান ন্যাটো বাহিনীতে যোগ করেছে।

ন্যাটোতে যোগ দিতে চাওয়া আরেক দেশ সুইডেনের সামরিক সেনার সংখ্যা মাত্র ২৪ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে নিয়মিত সেনার সংখ্যা ১৪ হাজার ৬০০ জন এবং সংরক্ষিত সেনা রয়েছে ১০ হাজার জন। তাদের সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে আছে ১২০টি প্রধান যুদ্ধট্যাঙ্ক, ৯৬টি যুদ্ধজাহাজ, ১০৬টি হেলিকপ্টার, ১ হাজার ৬৪টি সাঁজোয়া সেনা যান এবং ৩৫৭টি কামান।

পূর্বশত্রুতা

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ফিনল্যান্ড তার পূর্ব সীমান্ত শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার (৮৩২ মাইল) সীমান্ত রয়েছে। দেশটি লাপেনরন্তা সীমান্ত এলাকাকে নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ মনে করে থাকে। কারণ এর বিভাজন রেখাটি দক্ষিণ ফিনল্যান্ড উপসাগর থেকে সুদূর উত্তরের আর্কটিক পর্যন্ত (১৩৪০ কিলোমিটার) প্রসারিত। এটি রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘতম সীমান্ত। যার দুপাশে ছড়িয়ে আছে বন্য পাইন বন। বিস্তৃত ও ঘন এই বন পাহারা দেওয়া ও এর নিরাপত্তা রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয় ফিনিশ পুলিশকে। এ কারণেই নিরাপত্তা জোরদার করতে এই এলাকাজুড়ে ২শ কিলোমিটারের এক দীর্ঘ বেড়া নির্মাণ শুরু করেছে ফিনল্যান্ড।

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জটিল এক ইতিহাস রয়েছে ফিনল্যান্ডের। ১৯ শতকের শুরু দিকে কথা। তখন ফিনল্যান্ডের প্রায় পুরো ভূখ-ই সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) দখলে ছিল। এরই মধ্যে ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়। এরপর রাশিয়া থেকে স্বাধীন হয় ফিনল্যান্ড। কিন্তু ১৯৩৯ সালে আবারও সোভিয়েত আক্রমণের শিকার হয় ফিনিশরা। যার পরিণামে দুই প্রতিবেশীর কেউই দীর্ঘদিন শান্তি পায়নি। ফিনল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ যুদ্ধ বাঙ্কারগুলোর গোলকধাঁধা তার বড় সাক্ষী। গত কয়েক দশক ধরে হেলসিঙ্কি খুব সাবধানে রাশিয়ার চারপাশজুড়ে তার বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি গ্রহণ করে চলেছে।

ফিনিশরা নিজেদের বাস্তববাদী ভাবতে ভালোবাসে। তাই তারা এখন বিশ্বাস করে, তাদের জাতীয় নিরাপত্তা জোটের বাইরের চেয়ে ভেতরেই বেশি সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমানে ৫৫ লাখ জনসংখ্যার ফিনল্যান্ড প্রতিরক্ষা খাতে বড় আকারের ব্যয় করে থাকে। যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি হিসেবে এর সামরিক বাহিনীর সংখ্যা ২ লাখ ৮০ হাজার এবং আরও সংরক্ষিত সেনার সংখ্যা ৮ লাখ ৭০ হাজার।

বাধা সত্ত্বেও ন্যাটোতে যোগদান

এর আগে ফিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী ‘কুর্দি সন্ত্রাসীদের’ সহায়তা করার অভিযোগ ছিল তুরস্কের। সে জন্য দেশটির ন্যাটোতে যোগদানের আবেদনটি গত কয়েক মাস ধরে আটকে রেখেছিল তুর্কি সরকার। কিন্তু তুরস্কের অভিযোগের বিরুদ্ধে ফিনিশ সরকার দ্রুত ‘নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ’ নেয়। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানের অনুমোদনের চুক্তিপত্রে সই করেন তিনি।

এতদিন ফিনল্যান্ড ন্যাটো থেকে দূরে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান দেশটিকে ভীত-সন্ত্রন্ত করে তোলে। তাই বাধ্য হয়েই সাত দশকের জোট নিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে আসে হেলসিঙ্কি এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এদিকে হেলসিঙ্কির পশ্চিমা এই সামরিক জোটে যোগদানের পক্ষে দেশটির জনমত রাতারাতি এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়। ন্যাটোর নতুন সদস্য যোগদানের প্রক্রিয়া অনুযায়ী, একটি নতুন দেশকে এই সামরিক জোটের সদস্য করার ক্ষেত্রে সব সদস্য দেশের পার্লামেন্টের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন সদস্যকে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয়।

গত বছরের মে মাসের শেষ দিকে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিতে একসঙ্গে আবেদন করে। সবশেষ দুই সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্ক ও হাঙ্গেরির পার্লামেন্ট ফিনল্যান্ডের সদস্যপদের অনুমোদন দিয়েছে। ন্যাটোর নতুন সদস্য হিসেবে হেলসিঙ্কিকে গত ২৭ মার্চ অনুমোদন দেয় হাঙ্গেরি। ঠিক এর দুদিন পর গত ৩০ মার্চ এ নিয়ে তুর্কি পার্লামেন্টে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং হেলসিঙ্কির ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায়।

এর চার দিন পর চলতি এপ্রিলের ৪ তারিখ ফিনল্যান্ডের সামরিক এই জোটে যোগ দেওয়া উপলক্ষে বেলিজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাটোর ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে জোটটির মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গের উপস্থিতিতে মার্কিন পরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের হাতে ন্যাটোতে যোগদানের নথি তুলে দেন ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তোর। এর মধ্য দিয়েই এ দিন ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ৩১তম সদস্য হয়। এ নিয়ে বাল্টিক সাগর অঞ্চলে ন্যাটোর সদস্য দেশ হলো সাতটি। ফলে এলাকাটিতে আরও মিত্রশূন্য হয়ে পড়ল রাশিয়া। অপরদিকে রাশিয়ার বিপক্ষে ন্যাটো দ্বিগুণ সীমানা পেল। এদিকে ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়টিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, ফিনল্যান্ডে কী ঘটছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। এ সময় ন্যাটোর সম্প্রসারণকে রাশিয়ার নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও জাতীয় স্বার্থে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ন্যাটোয় যোগ দেওয়ার পরপরই ফিনল্যান্ডকে স্বাগত জানিয়ে জোটটির মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গ বলেন, ‘ন্যাটো জোটে আসায় ফিনল্যান্ড এখন নিরাপদ এবং আরও শক্তিশালী হবে। ন্যাটোর মার্কিন দূত জুলিয়ান স্মিথ বলেন, ‘ফিনল্যান্ড দারুণ মিত্র। দেশটির সক্ষমতাও ব্যাপক। এ ছাড়া এর নীতি ন্যাটোর সঙ্গে মেলে। আমরা ন্যাটোর টেবিলে তাদের বাধাহীন অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।’ তবে  ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তো বলেন, ‘তাদের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কাজ হলো, সুইডেনকে সদস্যপদ পেতে সাহায্য করা।’

ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয় কেন

২০০৮ সালে ইউক্রেন ন্যাটেতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। জবাবে সামরিক এই জোটটি জানায়, ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এই ব্লকে যোগ দিতে পারবে ইউক্রেন। কিন্তু সম্প্রত যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভ ন্যাটোর কাছে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ সদস্যপদের জন্য অনুরোধ জানায়। এবারও তাকে প্রত্যাখ্যান করে সামরিক এই জোট। এর কারণ ন্যাটো সনদের পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা আছে, যদি ন্যাটোর কোনো দেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে তাকে রক্ষায় এই জোটের সব দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। ইউক্রেনকে সদস্য করা হলে ন্যাটোভুক্ত এর সব দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে যেতে হবে।