গরমে সহনীয় বৈশাখী সাজ

আসছে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। উৎসবের এই বিশেষ দিনটিতে সাজপোশাকে থাকা চাই পুরোপুরি বাঙালিয়ানার ভাব। বিশেষ এই দিনটিতে কীভাবে সাজবেন, জানালেন বিউটি ব্লগার নাহিন ইসলাম

যদিও পহেলা বৈশাখে প্রচন্ড গরম থাকাই স্বাভাবিক। তাই সাজপোশাকে আরাম ও স্বস্তির বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। এ সময় পোশাক, সাজ, এক্সেসরিজ সবকিছু বাছাইয়ে ফ্যাশন ট্রেন্ডের পাশাপাশি স্বস্তির বিষয়টা গুরুত্ব পাক।

পোশাক

বৈশাখে সবচেয়ে ভালো হয় সুতি তাঁত বা কোটা শাড়ি পরলে। আগে সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরা হতো, কিন্তু এখন নানা রঙের শাড়ি বৈশাখের ফ্যাশনে জায়গা করে নিয়েছেন। গরমে অতি নকশা বা ভারী ফেব্রিকসের শাড়ি বাদ দেওয়াই ভালো। একরঙা সুতি শাড়িতে চিকন পাড় বা ব্লক বা স্ক্রিন প্রিন্টের শাড়ি পরতে পারেন। এক প্যাঁচে করে শাড়ি যেমন পরতে পারেন তেমনি শাড়ির আঁচল ভাঁজ করে কাঁধে আটকে দিতে পারেন। যেহেতু গরম তাই হাফহাতা বা সিøভলেস ব্লাউজ বেশি ভালো। অথবা হাতায় কুচি দেওয়া লেইসের ব্লাউজও মানিয়ে যাবে। আবার শাড়ির সঙ্গে মিল রেখে বাটিকের ব্লাউজ কেউ কেউ পরতে পারেন। অনেকেই শাড়ির বদলে গরমের জন্য সালোয়ার-কামিজ, টপ, কয়েক লেয়ারের স্কার্ট, ফতুয়া পরতে পছন্দ করে। যেহেতু উৎসবটি একেবারে দেশীয় সংস্কৃতির, তাই মেয়েদের জন্য শাড়ি, আর ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবিটাই বেশি মানানসই বৈশাখের পোশাক হিসেবে। 

মেকআপ

পোশাক-আশাকের সঙ্গে সাজটাও মানানসই হতে হয়। সাজতে মেকআপ যেমন বাদ দেওয়া যাবে না। তেমনি গরমে ভারী মেকআপও এড়িয়ে যেতে হবে। মেকআপ হালকা বেসের হতে হবে। যাতে দীর্ঘ সময় গরমে বাইরে থাকলেও মেকআপে কালচে হয়ে না যায়। ঘামে মেকআপ গলেও যাতে না যায়। উৎসবের কয়েক দিন আগে থেকে ত্বকের যতœ নিতে পারলে ভালো।

মেকআপ করার আগে সুতি কাপড়ে এক টুকরা বরফ পেঁচিয়ে মুখে আলতো করে ঘষে নিতে হবে। এতে মেকআপ ত্বকের ভেতরে যাবে না আর ঘাম কম হবে। হালকা ফেস পাউডার ও বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন । মেকআপ শেষ করে মেকআপ সেটিং স্পে করে নিতে হবে, যাতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হয়। চোখে ওয়াটার বেসড কাজল পরতে পারেন। ম্যাট বেসড লিপস্টিক এ সময়ের সাজের জন্য উপযোগী। গাঢ় আইশ্যাডো ও মাশকারা এড়িয়ে যেতে হবে। আর পরলেও ম্যাট ফিনিশিং হলে ভালো হয়। কপালে ছোট বা বড় টিপ পরতে পারেন।

চুল

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুলের সাজটা হতে হবে। গরমে চুল খোলা রাখতে যদি অস্বস্তি হয় তাহলে চুল বেণি বা খোঁপা করে রাখতে পারেন। চুলের অনেক ধরনের বেণি আছে। পছন্দমতো একটা বেণি করে নিতে পারেন। বেশি বড় খোঁপা করলে মাথা ভারী হয়ে যায়, বেশি সময় থাকাও যায় না। তাই খোঁপাতে একটি ফুল গুঁজে হাত খোঁপা করতে পারেন। যাদের চুল ছোট তারা ভালো করে আঁচড়ে ক্লিপ লাগিয়ে নিন। যারা চুল ছেড়ে রাখতে চান তারা একপাশে চুল নিয়ে অন্য পাশে একটি ফুল বা স্টোনের ক্লিপ পরে নিন। ছোট চুল খোলা রেখে মাথায় ফুলের মুকুটও পরতে পারেন। চুল সিল্কি করতে চাইলে স্ক্যাল্পে হট অয়েল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করে নিন।

গয়না

শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে গয়না পরতে পারলে সাজে পরিপূর্ণতা আসবে। সে ক্ষেত্রে মাটির গয়না বেছে নিতে পারেন । মাটি, কাঠ, রুপা, মুক্তা বা তামার মালা পরতে পারেন। এখন অবশ্য জাঙ্ক জুয়েলারির ট্রেন্ড চলছে। ভারী গয়না পরতে না চাইলে ফুলের মালাও পরতে পারেন। আবার কানে ভারী ঝুমকা বা পাশা পরলে গলা খালি রাখতে পারেন। হাতে মাটি বা কাঠের বালা যেমন পরা যাবে, তেমনি রেশমি চুড়িও পরা যাবে।

টিপ

বৈশাখে লাল টিপটাই মানায় বেশি। আবার শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে টিপ পরতে পারেন। তবে যেকোনো রঙের শাড়ির সঙ্গেই কিন্তু লাল টিপ মানিয়ে যায়। চাইলে কাস্টমাইজড টিপও পরতে পারেন।

ব্যাগ, জুতা ও অন্যান্য

শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগ বেছে নিন। কালো আর লাল কালার ক্লাচ বা ব্যাগ মানিয়ে যায় সব রঙের শাড়ির সঙ্গে। মাঝারি আকারের টোট ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে বের হওয়ার সময় ছোট পানির বোতল, হালকা মেকআপ, রুমাল, ডিওডোরেন্ট ও সানগ্লাস ও ছাতা সঙ্গে রাখুন। অনেকেই হিল জুতা পরে হাঁটতে পারেন না, আর এই উৎসবে হাঁটতে তো হয়ই। তাই শাড়ির সঙ্গে মিডিয়াম হিলের ওয়েজেস জুতা বা ফ্ল্যাট সোলের সিøপার পরতে পারেন।

সারা বছরে এই পহেলা বৈশাখ একবারই পাওয়া যায়, এ জন্য এর পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া দরকার। তাই দুদিন আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন আপনার প্রয়োজনীয় সবকিছু, নিজস্ব স্টাইলে সাজুন আর আরামদায়কভাবে উৎসবটি উপভোগ করুন।