প্রায় ১০ বছর আগে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ ভবন ধসে হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির মামলায় ভবন মালিক সোহেল রানাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী হাইকোর্টের ওই আদেশের ওপর ৮ মে পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন।
সোহেল রানার জামিন প্রশ্নে রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিনের এ রায় দেয়।
এ মামলায় সোহেল রানাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২০২১ সালের ১ মার্চ রুল দিয়েছিল হাইকোর্ট।
গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। সোহেল রানার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতকে বলেছি, এটি একটি খুবই স্পর্শকাতর মামলা। ১ হাজার ১০০-এর বেশি লোক মারা গেছেন। মামলাটি এখন সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সোহেল রানার জামিন স্থগিত থাকাই সমীচীন। জামিন স্থগিত করে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির আদালতে পাঠিয়েছে চেম্বার আদালত। আমরা এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করব।’
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হয় দুই হাজারের বেশি লোক। তাদের প্রায় সবাই ওই ভবনে থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
এ ঘটনার পর সাভার যুবলীগের সহসভাপতি (পরে বহিষ্কৃত) সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২, ৩২৬ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর ২৯ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোটিসের পরেও সম্পদের হিসাব বিবরণী না দেওয়া, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ইমারত আইনের মামলাসহ আরও তিনটি মামলা হয়। সম্পদের হিসাব বিবরণী না দেওয়ার মামলায় ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ সোহেল রানাকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এক রায়ে তিন বছরের কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়।