রমজান মাসে অনেকেই অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রয়েল মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক সালমান খান প্রান্ত। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন করেন। উত্তরায় এবারই প্রথম এ ধরনের আয়োজন। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ জনের মতো রোজাদার এখানে ইফতার করেন। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। নিজস্ব তহবিল থেকেই এ অর্থ খরচ করে সালমান খান প্রান্ত।
গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর দেখা যায়, ৯ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর রোডে ব্যস্ত সময় পার করছে একদল স্বেচ্ছাসেবক। সড়কজুড়ে বিশাল বড় প্যান্ডেল টাঙানো। বসার জন্য ত্রিপলের ওপর চাদর বিছানো। পাশে চলছে আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, ছোলাবুট, বুরিন্দা, জিলাপি ইত্যাদি বানানোর কাজ। এ ছাড়া দেওয়া হয় কোমলপানি, শরবত ও সাদা পানি।
অন্যদিকে ইফতার করানোর জন্য সারিবদ্ধভাবে লোকজন বসাতে ব্যস্ত একদল স্বেচ্ছাসেবক। এখানে ইফতার করতে আসেন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, পথচারী, ভিক্ষুক, সিকিউরিটি গার্ড, অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। ইফতার করতে আসা মানুষের সঙ্গে রমজানের শুরু থেকেই ইফতার করছেন আয়োজক সালমান খান প্রান্ত। তিনি নিজে এখানকার সবকিছু তদারকি করেন। তার এমন আয়োজনে প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বত্র।
সালমান খান প্রান্ত দেশ রূপান্তরকে জানান, রমজান মাসে অনেকেই অসহায়, গরিব ও দুস্থ মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। আমরাও সাহায্য-সহযোগিতা করি। পাশাপাশি আমার মনে হয়েছে অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। আমি সিদ্ধান্ত নিই মাসব্যাপী ইফতার করানোর। আমরা প্রথমে ৪০০ লোকের ইফতারের ব্যবস্থা করি। দিন যত যায় লোকসংখ্যা তত বাড়তে থাকে। আমরাও আমাদের ইফতারের খরচ বাড়াতে থাকি। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ লোককে এখানে ইফতার করানো হয়। এখানে পুরোটাই আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করা হয়। এ ছাড়া আমার বাবা, আমার দুই চাচা ও বড় ভাই তাড়াও এখানে সহযোগিতা করেন।
তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ আছেন রোজা রেখে ভালো ইফতার করতে পারেন না। অন্যদিকে পথচারী রয়েছেন, যারা কাজের জন্য রাস্তায় আটকে যান, তারাও সময়মতো ইফতার করতে পারেন না। এসব পরিস্থিতি চিন্তা করে আমরা বিনামূল্যে গরিব ও অসহায় থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত ইফতারের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এই টাকা আমি নিজেই বহন করি।
ইফতার করতে আসা মো. সাইমন দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি এখানে বিনামূল্যে প্রায় ইফতার করি। আমি একজন টোকাই। আমরা যেখানে-সেখানে কাজ করি। একবেলা পেট ভরে খাই, তাই আমার কাছে অনেক কিছু।
ভিক্ষুক সাহানাজ বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করে খাই। প্রথম রোজা থেকেই এখানে ইফতার করি। সঙ্গে আমার নাতিকে নিয়ে আসি। ইফতারের পর অল্প কিছু থাকলে তা আবার বাসায় নিয়ে যাই।
ইফতার আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা কাইউম আজাদ আপু দেশ রূপান্তরকে জানান, ইফতারের জন্য ৫০০ প্লেট ৫০০ গ্লাস, ১০০টি জগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন।