প্রেম করছি কি না বলব কেন?

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শোবিজে কাজ করছেন নাজিয়া হক অর্ষা। তবে সবশেষ তিন বছরে তার ক্যারিয়ারে বড় বাঁকবদলই ঘটেছে বলা চলে। এই অভিনেত্রী যদিও বাঁকবদল বা ঘুরে দাঁড়ানো শব্দগুলোতে বিশ্বাসী নন। সাক্ষাৎকারে তার কাজের সঙ্গে জীবনদর্শন ও ব্যক্তিজীবন তুলে এনেছেন তোফায়েল আহমেদ

ক্যারিয়ারে বাঁকবদল বা ঘুরে দাঁড়ানো...

অর্ষা : আমি বিষয়টি এভাবে দেখি না। তাই ঘুরে দাঁড়ানো বলব না। আমি ২০১০ সাল থেকে পারফর্ম করা শুরু করেছি। ২০০৯-এর শেষে বের হওয়া এবং ২০১০ সালে ছোট একটা ফিকশনে কাজ করা। এরপর ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত হওয়া। শুরু থেকেই আমার যেটা মটো, সেটা হলো পারফরম্যান্স করা। মোটামুটি ভালো গল্পে পারফরম্যান্স করা এবং কাজ শেখা। আমি এখন পর্যন্ত সেটাই করছি। আমি সব সময় পারফরম্যান্সই করেছি। কখন সেটা কার কাছে ভালো লাগছে এবং কীভাবে ভালো লাগছে, সেটা কিন্তু সম্পূর্ণ সময় এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। এটা মোটেও আমার কন্ট্রোলে নেই। ধরেন আমি শুরুতেই যে পরিশ্রম এবং শ্রদ্ধা দিয়ে কাজ করেছি, এখনো সেটাই করে যাচ্ছি। হয়তো-বা এখন মাধ্যম পরিবর্তন হয়েছে, মানুষের টেস্ট পরিবর্তন হয়েছে। যে কারণে আমার সিলেক্ট করা কাজ তাদের ভালো লাগছে। আমি কিন্তু আমার কাজ শুরুতে যেমন করেছি, এখনো তেমনই করছি।

যদি বলি অর্ষার বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে, তাহলে কী বলবেন?

অর্ষা : বৃহস্পতি শব্দটার সঙ্গে অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল যে মিনিং আছে, সেগুলোতে আসলে আমি বিশ্বাস করি না। আমি যেটা করি, সেটা হলো কাজ করি, পরিশ্রমটা করি। যদি পরিশ্রমটা সঠিক ফল নিয়ে আসে, সেটা আমার ভালো লাগে। সেটা দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। আমি উপভোগ করছি যে মানুষ পছন্দ করছে আমার কাজ। আর নারীপ্রধান কাজ আগে খুব বেশি দেখা যেত না। সাম হাউ কাকতালীয়ভাবে বেশ কতগুলো উইমেন্স সেন্সের গল্পে কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। সেগুলো আমি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি ঠিকঠাক মতো। হয়তো কোনোভাবে দর্শকদের ভালো লেগেছে। আর এই কাজগুলোতে আমার টিমের সবাইকেও কৃতিত্ব দিতে চাই আমি। কারণ এগুলো পুরোটাই আসলে টিমওয়ার্ক। তো আমার বৃহস্পতি তুঙ্গে কি নাÑ এটা আমি জানি না (হেসে)।

গল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?

অর্ষা : আমি আসলে কোনো কিছু মাথায় রেখে গল্প পড়ি না। গল্প পড়তে পাড়তে কোনো একটা কিছু যদি আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লাগে, যদি মনে হয় আগে এভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বা আমি এ রকম কাজ করিনি বা আগে করলেও এটার প্রেজেন্টেশন আলাদা, এখনে কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জের আছে। তখন আমি গল্প নির্বাচন করি। কিছু না কিছু থাকতে হয় যেটা আমাকে টানে।

ঈদে কী কী আজ আসছে...

অর্ষা : এবার খুব বেশি কাজ করার সুযোগ পাইনি। কুহেলিকা নিয়ে এক ধরনের ব্যস্ততা ছিল। এর আগে করলাম জাহান। পাশাপাশি ঈদের জন্য দুটি সিঙ্গেল নাটক করেছি।

১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

অর্ষা : শোনেন, এই প্রশ্ন আপনাকে আমি করলে আপনিও উত্তর দিতে পারবেন না। এই প্রশ্নগুলো আমার কাছে অবান্তর। কারণ, জীবন এত আনসার্টেন, আমি আগামীকাল দেখতে পাচ্ছি না। এখন থেকে পাঁচ মিনিট পরের মুহূর্ত দেখতে পাচ্ছি না। তাই ১০ বছর পর কী করব এই মতবাদে আমি বিশ্বাসী একদমই না। যদি তাই হতো, তাহলে ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে আমার যে চেঞ্জ আসবে, জানলে সময়টাকে আরও আগে টেনে আনার চেষ্টা করতাম। এই জিনিসগুলো আসলে কেউ বলতে পারে না। আমি বরং চাইতে পারি যে আমার ব্যক্তিগত জীবন আরও সুন্দর বা সমৃদ্ধ হোক। সে জন্য আমি আমার কাজটা ঠিকঠাক করতে পারি। অন্যগুলো তো আমার হাতে নেই।

বিয়ে, ব্যক্তিগত জীবন...

অর্ষা : এটাও (বিয়ে) একদমই আনসার্টেন। বিয়ে নিয়ে তো কোনো সিদ্ধান্তে যাইনি। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে হবে। রিসেন্টলিও হতে পারে, আবার এক-দুই বছর পরেও হতে পারে। আমার বাবা, মা, বোনদের নিয়েই আছি। কাজ করছি মনোযোগ দিয়ে। আমাকে সাপোর্ট করছেন, অ্যাপ্রিশিয়েট করছেন। সেটা আমি এ মুহূর্তে উপভোগ করছি। পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ব থাকে, মেয়ে হিসেবে, বোন হিসেবে, সেই জায়গাটা কতটা সামলাতে পারছি সেটাও বড় ব্যাপার। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করছি। এই তো আমার ব্যক্তি জীবন।

অর্ষা কি প্রেম করছেন?

অর্ষা : এই প্রশ্নের উত্তর আমি কোনো দিন দেব না। মানুষের অনেক কিছুরই হয়তো বা জানার ইচ্ছে থাকতে পারে। কিন্তু সবকিছু মানুষের জানার প্রয়োজনও নেই। আমি যদি করেও থাকি সেটা জানার প্রয়োজন নেই, না করে থাকলেও প্রয়োজন নেই। আমার কাছে যেটা মনে হয়, দর্শকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের জায়গাটা কাজ দিয়ে। সেই কাজ থেকে যে প্রতিফলনগুলো আসে, সেগুলোকে আমরা রিসিভ করি। আমরা কিন্তু কোনো অডিয়েন্সের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বদার না। তাই বেটার হয় এ বিষয়গুলো আলাদা থাকুক। এই প্রশ্ন যদি আসে, যদি কোনো কিছু হয়েও থাকে সেটা কিন্তু কোনো পারফর্মার জানাবে না।