কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেহমানখানার ইফতার

ইফতারের সময়ের ৩০-৪০ মিনিট আগে থেকেই মেহমানখানায় আসতে শুরু করেন রোজাদার মুসল্লিরা। এখানের মেহমান মূলত নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। গত ২৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মেহমানখানায় এখন পর্যন্ত আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন ৭ শতাধিক মেহমান।

আবদুল লতিফ (৫৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। প্রতিদিনই তিনি গ্রহণ করেন মেহমানখানার ইফতার। তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যেকদিন (প্রতিদিন) ইফতার নেই। এইডা নিজের ভাইবা নেই। আমার মতো অনেকেই লইয়া (নিয়া) যায় ইফতার। দোয়া করি, তারা যাতে অনেক বড় হয়।’

আরেকজন রিকশাচালক মতি মিয়াও এই মেহমানখানা থেকে ইফতার সংগ্রহ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ করা অনেক শ্রমিকও সংগ্রহ করেন এখানকার ইফতার। এ ছাড়া রাস্তায় চলাচলের সময় ইফতারের সময় আটকে থাকা পথচারীরাও এখান থেকে ইফতার সংগ্রহ করেন নিঃসংকোচে।

মেহমানখানার উদোক্তা রাশেদুল ইসলাম রিয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি প্রতি বছর বড় ভাই, বন্ধু ও ছোট ভাইদের নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করি। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সেখান থেকে সরে এসে দরিদ্র মানুষদের কাছে ইফতার পৌঁছে দিতে কাজ করছি। তাছাড়া যারা এখান থেকে ইফতার সংগ্রহ করবেন- তারা যেন এটাকে অনুগ্রহ কিংবা দয়া না মনে করেন, এ জন্য আমরা মাসব্যাপী ছাত্রলীগের মেহমানখানা আয়োজন করেছি। তারা আমাদের মেহমান হিসেবে এখান থেকে সম্মানের সঙ্গে ইফতার নেবেন। দরিদ্র, অসহায় কিংবা অসচ্ছল হিসেবে নয়।’

রিয়েল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।