শিশু সন্তানের ওপর নির্মমতায় জড়িতদের বিচার ও চিকিৎসার খরচ আদায়ের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দিশেহারা এক মা। তার নাম পূর্ণিমা দে জয়ন্তী।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামের বাঁশখালী-আনোয়ারা-পিএবি সড়কে দ্রুতগামী বাসচাপায় (চট্টমেট্রো-ব-১১-১৪৫৪) পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যায় তার পাঁচ বছরের সন্তান অগ্ররাজ সিকদার। সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুটির আরেক পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ণিমা দে জয়ন্তী জানান, ছেলের চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ৭ লাখ টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছেন। বিভিন্ন লোক থেকে ধার করে এই টাকা খরচ করেছেন তিনি। সন্তানকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে আরো ৭ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু এই টাকা জোগাড়ের সামর্থ্য তার নেই। পূর্ণিমা বাঁশখালীর শেখেরখীল তারাকিংকর সিকদার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্বামী রূপন সিকদার পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি।
পূর্ণিমা দে জয়ন্তী জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাঁশখালী-আনোয়ারা-পিএবি সড়কের পূর্ব পাশে তার ছেলে অগ্ররাজ সিকদারকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান বাসচালক আবদুস শুক্কুর । এ দুর্ঘটনায় তার ছেলের মাথা ও দুই পা মারাত্মক জখম হয়। প্রাণ বাঁচাতে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। ডান পায়ের হাড় অস্ত্রোপচারের পর জোড়া লেগেছে। প্রয়োজনীয় আরো অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসায় সাত-আট লাখ টাকা লাগবে বলে চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন। কিন্তু তার পক্ষে আর চিকিৎসার ব্যয়ভার চালানো সম্ভব নয়। এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পূর্ণিমার অভিযোগ করে বলেন , ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কর্ণপাত করছে না বাস মালিক কর্তৃপক্ষ । গত ৮ মার্চ বাঁশখালী থানায় মামলা করতে গেলে নেয়নি পুলিশ। পরে ২৩ মার্চ মামলা নিয়ে বাসটি জব্দ করে পুলিশ। এদিকে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে কোনো সাড়া পাননি। উপায় না দেখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি।