বিরিয়ানির প্যাকেটে শিশুদের মুখে হাসি

‘আজ বড় স্যার খাওয়ন দেব। পেট ভরে খাব।’ একটু পর বিরিয়ানির প্যাকেট পেয়ে দেখা গেল, শিশুদের মুখে আনন্দের ঝিলিক। কোমলমতি শিশুদের মুখে এই হাসির উপলক্ষ ইউরেকা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফিরোজের দেওয়া ইফতার। গত রবিবার বিকেলে উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরে ইউরেকা স্কুলের ৪০ জন বাচ্চার মধ্যে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

খাবার নিতে আসা বাচ্চারা সাধারণ বাচ্চাদের চেয়ে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু ওরাও মানুষ আর ওরাও সবার ভালোবাসা পেতে পারে। এ লক্ষ্যে ইউরেকা স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ছিন্নমূল শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রতি বছর মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন করে।

ইউরেকা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বছর অর্থনৈতিক সংকটের অভাবে প্রতিদিন ইফতার আয়োজন করা যায়নি। মাত্র ৩-৪ দিন ইফতার আয়োজন করা গেছে। এছাড়া প্রতি ঈদে আমরা দয়াবান ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বাচ্চাদের ঈদের পোশাক দিয়ে থাকি এবং রমজানের বাজার করে দিই। কিন্তু ফান্ড সংকটের কারণে এ বছর কোনো কিছু করা সম্ভব হয়নি।’

আট বছরের শিশু সাইফুল থাকে রেলগেটের বস্তিতে। খাবারের প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার সময় বলে, ‘আমি এই স্কুলে পড়ি, ম্যাডাম আছে; বড় স্যারও পড়ায়। স্কুলে আগেও খাওয়াইছে। আজকের খাবার পেট ভরে খাব।’

২০০২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি ইউরেকা স্কুলে যাত্রা শুরু হয় একটি ডাস্টবিনের পাশে থেকে। বস্তিতে বস্তিতে হেঁটে, গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে স্বপ্নহীন শিশুদের জোগাড় করে গাছতলার সেই শুরুটা ছিল খুবই কষ্টসাধ্য। ঢাকার উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টর রেলগেট রোডের (সোনালী ব্যাংক অফিসার্স কোয়ার্টারের দক্ষিণ গেটে) ডাস্টবিনের পাশে ছালা দিয়ে ঘিরে সরকারি জায়গায় ইউরেকা স্কুলের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিন শিফটে ২ জন শিক্ষক ও ২ জন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজ অব্যাহত রাখেন।

বিভিন্নজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত ফান্ডের মাধ্যমে শিশুরা পড়ালেখা শিখছে। এখান থেকে প্রায় এ পর্যন্ত ৪০০-৫০০ ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শিখেছে। ওরা এখন বড় হয়েছে, শিক্ষিত হচ্ছে, জ্ঞানী হচ্ছে, জেএসসি, এসএসসি পাস করছে, পড়ছে কলেজে। বেশ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করছে।