বিআরটিএর চিঠি

সড়কে নিহতের সংখ্যা যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশে না

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশ না করতে বেসরকারি সংগঠনগুলোকে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নিয়ন্ত্রক এই সংস্থার ভাষ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান একেক প্রতিষ্ঠানের একেক রকম, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

আগে পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়কে দুর্ঘটনা, আহত এবং নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করত বিআরটিএ, যা বেসরকারি সংগঠনগুলোর প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক কম। চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেছে বিআরটিএ।

বিআরটি এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে সারা দেশে ৩৮৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৪১৫ জন। আহত হয়েছে ৬৮৮ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্চে ৪৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৭ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ৪৮৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৩৮ জন আহত হয়েছে।

সংখ্যার এই তারতম্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ৬ এপ্রিল বেসরকারি চারটি সংগঠনকে প্রথম দফায় চিঠি দেয় বিআরটিএ। নিরাপদ সড়ক চাই -এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সেভ দ্যা রোডের চেয়ারম্যানকে এই চিঠি দেওয়া হয়।

এদিকে চিঠির বিষয় রোড সেফটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিআরটিএ ব্যাখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৩৬২ দুর্ঘটনায় ৫০২ জন নিহত হয়েছে। প্রতিদিন অনেক দুর্ঘটনা হিসাবের বাইরে থেকে যায়। গড়ে প্রতিদিন চারটি অপ্রকাশিত দুর্ঘটনা ধরে মার্চের ৩১ দিনে ১২৪টি দুর্ঘটনা হিসাবে আসেনি। আর প্রতিদিন গড়ে দুর্ঘটনায় আহত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ হিসাবে আরও ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে মার্চে। সাকল্যে ৫৮৬ দুর্ঘটনায় ৫৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আমরা এই প্রতিবেদনগুলো গণমাধ্যম থেকে নিয়ে তারপর করি। তারা ব্যাখা চেয়েছে, মূলত আমরা চাই সবাই এক সঙ্গে কাজ করে সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে। যেন সড়কে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের এই তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো থেকে আমরা নিয়ে থাকি। আর গত মাসে বিআরটিএর, হিসেবে ৩৮৭ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪১৫ জনের। তারা কীসের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে? বিআরটিএর জনবলের প্রতিটি দুর্ঘটনা লিপিবদ্ধ করার সক্ষমতা আছে কি? আমরা অনেক বছর দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই তথ্য সরবরাহ করে আসছি।