পাবনার নগরবাড়ী আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণ

৩ বছরের কাজ ৫ বছরেও হয়নি

নানা জটিলতায় সময় ও ব্যয় বাড়িয়েও শেষ হয়নি পাবনার নগরবাড়ী আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণকাজ। তিন বছরের প্রকল্প ইতিমধ্যে পাঁচ বছর অতিক্রম করলেও কর্তৃপক্ষ আরও দুই বছর সময় চায়। নির্মাণকাজের এমন ধীরগতিতে পণ্য খালাস ও পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

পাবনা নগরবাড়ী বন্দর কর্মকর্তা ওয়াকিল আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে পণ্যবাহী জাহাজে আমদানির পর পাবনার নগরবাড়ী থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় কয়লা, সার, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন সুবিধা বাড়াতে ২০১৮ সালে ৫১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণ শুরু করে সরকার। ৩ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও করোনাকালে প্রায় ১ বছর কাজ বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে, বরাদ্দ দেওয়া হয় অতিরিক্ত ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু এ মেয়াদেও কাজ শেষ না হওয়ায় সম্প্রতি প্রকল্পের মেয়াদ আরও ২ বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যমুনার পাড়ে বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চলতে থাকায় এখানে আমদানি পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। ভিড়ছে না বড় জাহাজ। এতে আমদানি-রপ্তানি কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

নগরবাড়ী ঘাট এলাকার আমদানিকারক নওয়াপাড়া গ্রুপের প্রতিনিধি মো. আরমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের আমদানি করা সার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এখানে নির্মাণকাজ চলতে থাকায় এবং নদীতে পর্যাপ্ত নাব্য না থাকায় এখন বেশিরভাগ পণ্য যশোরের নওয়াপাড়া ঘাটে আনলোড করা হচ্ছে।’

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধি মো. রাজিব হোসেন বলেন, ‘নগরবাড়ী বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় সার, কয়লা, পাথর ও অন্যান্য আমদানি পণ্য সরবরাহ করা অনেক সহজ। এখান থেকে সড়ক পথে কম খরচে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে বন্দর আধুনিকায়ন কাজ ধীরগতিতে চলতে থাকায় পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে। আমদানিকারকরা বাধ্য হয়ে সেসব পণ্য দক্ষিণাঞ্চলের নওয়াপাড়া বন্দরে খালাস করছেন। নওয়াপাড়া থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পৌঁছাতে ট্রাকপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। সময়ও লাগছে বেশি।’

নগরবাড়ী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এ কে এম রফিকউল্লাহ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে নগরবাড়ী নৌবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে বন্দর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।’

প্রকল্প পরিচালক মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাকালীন কাজের ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে কাজ ধীরগতিতে এগোয়। তাছাড়া নির্মাণ সামগ্রীর ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। তাই আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণের জন্য কারিগরি কমিটি কাজ করছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, ‘বাণিজ্যিক কারণে নির্মাণ ও আমদানি একই সঙ্গে চলমান থাকায় ধীরগতিতে হলেও প্রকল্পের শতকরা ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যেই বন্দর কার্যক্রম পুরোপুরি শুরুর আশা। অটোমেশন পদ্ধতিতে বন্দরটি চালু হলে একসঙ্গে ১০টি কার্গো-জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে বলে মনে করি।’