এশিয়ায় বিস্তৃতিতে মরিয়া ওয়াশিংটন

বিশ্বে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাপটে দুশ্চিন্তায় ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যে এই দুই পরাশক্তির কারণে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ দেখছে বিশ্ব। এশিয়ায় চীনের সামরিক-বাণিজ্যিক-কূটনৈতিক প্রভাব মোকাবিলার উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা আধিপত্যে সার্বভৌমত্বের শঙ্কায় আছে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন আর তাইওয়ান তো আছেই। এমনকি মালয়েশিয়াও। চীনকে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে এসব দেশকে অভয় দিয়ে পাশে রাখতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জো বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসেই এ অঞ্চলে তৎপরতা বৃদ্ধি করে। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন প্রত্যয় ঘোষণা করেন যে, চীনের চাপ মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে বেলুনকাণ্ড, তাইওয়ান নিয়ে দুই দফায় সর্বোচ্চ উত্তেজনাসহ বৈশ্বিক বলয়ে চীনের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও এশিয়ায় জোর তৎপরতা শুরু করেছে।

গত শনিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিনহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্লিঙ্কেন। তার এ সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে বাইডেন প্রশাসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে ভিয়েতনামকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সঙ্গে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। এর আগে গত মাসেই ভিয়েতনামের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট দলের বর্ষীয়ান নেতা নগুয়েন ফু ট্রোংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অথচ এই ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন সেই যুক্তরাষ্ট্রই ভরসা করছে ভিয়েতনামকে, গড়তে চাইছে আরও সুসম্পর্ক। হ্যানয় সফরে গিয়ে গত শুক্রবার নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ব্লিঙ্কেন। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চীনের সঙ্গে ভিয়েতনামের বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কাজে লাগিয়েই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রভাব মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো প্রধান ডেমিয়েন কেভ এশিয়ায় দুই পরাশক্তির তৎপরতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তিনি বলছেন, সম্প্রতি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলে পারস্পরিক পুরনো দ্বন্দ্ব ও সংঘাত জাগিয়ে তোলা এবং নতুন করে দ্বন্দ্বের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কয়েক দশকের শান্তিবাদী অবস্থান শেষ জাপানও আক্রমণাত্মক শক্তি হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করছে। জাপান এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছে ভারত। দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। ওয়াশিংটন চীনের সামরিক পদক্ষেপ রুখতে তাইওয়ানে বিশাল অস্ত্র মজুত করার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে বন্দর ও রানওয়ে সুবিধা বাড়াচ্ছে ফিলিপাইন।