বাংলা সিনেমার স্বর্ণালী যুগ অর্থাৎ সত্তর-আশির দশকের সফলতম নায়িকা কবরী। সেসময়ে গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তরাও কবরীকে যতটা নিজেদের মানুষ হিসেবে ভাবতে পেরেছিলেন, ততটা হয়তো বাংলাদেশের সিনেমা জগতে অন্য কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পারেননি। দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘মিষ্টি মেয়ে’ নামে। স্বভাবে চঞ্চল, গভীর চাহনী আর তার মিষ্টি হাসিতে যে কেউই বুঁদ হয়ে যেতো!
দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের আজকের এই দিনে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। আজ তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। ৭০ বসন্তের ৫৬ বছরই তিনি ছিলেন সিনেমার সঙ্গে।
তার পুরো নাম সারাহ বেগম কবরী হলেও আসল নাম মিনা পাল। ১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠেন তিনি। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের সুতরাং ছবির মধ্যে দিয়ে সিনেমায় অভিষেক, সেসময়ই তার নতুন নাম রাখা হয় কবরী।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমায়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’, ‘পরিচয়’, ‘দেবদাস’, ‘রংবাজ’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘দ্বীপ নেভে নাই’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বৌ’, ‘অধিকার', ‘বেঈমান’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘দীপ নেভে নাই’ ইত্যাদি।
সিনেমার পর্দায় বাংলাদেশি সাধারণ মেয়ে হিসেবে কবরীকে যেভাবে দেখা যেত, বাস্তবের গ্রামীণ নারী বা শহুরে মধ্যবিত্তের ঘরের মেয়ের চরিত্রটা ঠিক সেরকম ছিল। অভিনয় শিল্পী হিসেবে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সহজাত প্রবৃত্তি কবরীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা অবস্থান দিয়েছে বলেই অনেকের মন্তব্য। ‘মিষ্টি মেয়ে’ ছাড়া তিনি ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। কারণ তার চেহারায়, আচরণে, অভিনয়ে সেই বিষয়টা ছিল।
অভিনয়ের বাইরে সিনেমা নির্মাণেও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এই কিংবদন্তি। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আয়না’। সর্বশেষ ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন। তবে এর কাজ শেষ হওয়ার আগেই মারা যান তিনি। ফলে ছবিটি আর পূর্ণতা পায়নি।
১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন কবরী। এরপর ২০১৩ সালে একই পুরস্কার আয়োজনে আজীবন সম্মাননা পান।