মজিদ চাচা প্রতীকী নাম: বিদ্যানন্দ

সম্প্রতি একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিদ্যানন্দকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গবাজারের পোড়া কাপড় দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয় বিদ্যানন্দ। পোস্ট দেওয়ার পর ছবিগুলো নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, ছবিগুলো অনলাইন থেকে ডাউনলোড করে বঙ্গবাজারের আগুনে পোড়া কাপড়ের অলঙ্কার বলে চালিয়ে দেয় তারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হয়। এক পর্যায়ে বিদ্যানন্দ নিজেদের ভুল স্বীকার করে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চায়।

এরপরও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যানন্দের নতুন-পুরোনো অনেক পোস্ট নিয়ে চলছে সমালোচনা-ট্রল। বিশেষ করে গরু জবাই করে সুবিধা বঞ্চিতদের খাওয়ানোর একাধিক পোস্টে একই গরুর ছবি ব্যবহারের অভিযোগ করছেন সমালোচকরা। এছাড়া মজিদ চাচা নামে একটি চরিত্র নিয়েও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা। বিদ্যানন্দ বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষজনকে সহযোগিতা করার পর মজিদ চাচা নামটি ব্যবহার করেছে।

নেটিজেনদের প্রশ্ন, এ মজিদ চাচা কে? যার নাম বার বার বিভিন্ন সময় সহযোগিতার নামে ব্যবহার করছে বিদ্যানন্দ।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমিউনিকেশনস সালমান খান ইয়াসিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যানন্দের অবস্থান জানিয়েছেন।

সালমান খান ইয়াসিন বলেন, বিদ্যানন্দকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। মানুষ বিদ্যানন্দের কার্যক্রমকে বিশ্বাস করবে কি না তা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। অনলাইনে আমাদের নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে এটা আমরা জানি। এটা অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। যেহেতু বিদ্যানন্দ চ্যারিটির কাজ করে, প্রতিষ্ঠান অনেক বড় হয়েছে, অনেকে হয়তো এটা সহ্য করতে পারছেন না। এ জন্যই বিদ্যানন্দের বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অনেকে গুজব ছড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের ফেসবুক পেজে যা লিখি তা অন্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো ফর্মাল বা আনুষ্ঠানিক কিছু নয়। আমরা লিখি মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও বঞ্চনার গল্প। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা এই গল্পগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করি। আমরা যখন মাঠে-ঘাটে কাজ করতে যাই, তখন এসব গল্প আমরা পাই। সেসব মানুষের চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে সরাসরি নাম ব্যবহার না করে প্রতীকী নাম ব্যবহার করি। এমন কিছু নাম ব্যবহার করা হয় যে নামগুলো সবার পরিচিত। যাতে মানুষ নামগুলো পড়ে নিজেদের সঙ্গে মেলাতে পারে। তেমন একটি নাম মজিদ চাচা।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেসব ছবি কিংবা লেখা ফেসবুক পেজে পোস্ট করি তার মূল উদ্দেশ্য আমাদের কার্যক্রমের বিষয়ে মানুষকে জানানো।