শবেকদরে উপচেপড়া ভিড় শ্রেষ্ঠ তিন মসজিদে

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিন মসজিদে (মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি ও বায়তুল মোকাদ্দাস) বিপুলসংখ্যক মানুষ শবেকদরে এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। সৌদি সংবাদমাধ্যম এসপিএর খবরে বলা হয়েছে, এদিন মসজিদে হারাম ও নববিতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ নামাজে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের মসজিদে আকসায় দুই লাখ ৮০ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজে অংশ নেন। উপস্থিত মুসল্লিদের কান্নাভেজা মোনাজাতে ফিলিস্তিনের আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।

মসজিদে নববি ও মসজিদে হারামে উপস্থিত মুসল্লিদের নিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আরব নিউজের খবরে বলা হয়, পবিত্র দুই মসজিদের ভবন, ছাদ সব জায়গা মুসল্লিতে পরিপূর্ণ ছিল। নামাজ আদায়কারীদের মধ্যে সৌদি নাগরিক, প্রবাসী, বিদেশি ওমরাহ পালনকারীরাও ছিলেন। রমজানের ২৭ তারিখে মুসল্লিদের জিকির, ইবাদত ও নামাজ আদায়ে যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করতে হারামাইন ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

২৭ রমজানে মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের ব্যাপক অংশগ্রহণের এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয় আল ইখবারিয়া চ্যানেলে। সেখানে দেখা যায়, মসজিদে হারাম প্রাঙ্গণ, ভেতর ও বাইরের উঠান, বিশেষ করে তৃতীয় বর্ধিত ভবন, আশপাশের রাস্তা, করিডর এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও হোটেলের এলাকাগুলো মুসল্লিতে পরিপূর্ণ।

হারামাইন প্রশাসনের মুখপাত্র হানি হায়দার জানান, রমজানের ২৭তম রাতের আয়োজনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের প্রধান শায়খ ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস। ২৭ রমজানের কথা মাথায় রেখে এদিন ১০ বার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে হারাম। এ কাজে চার হাজারের বেশি কর্মচারী ও ৪০০ নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া মাতাফে (তাওয়াফের স্থানে) ২ লাখ এবং সাফা ও মারওয়ায় ২০০ পানির বোতল বিতরণের পাশাপাশি এবং বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ইবাদতকারীদের জন্য ৩ হাজার ইলেকট্রনিক হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচালনা পর্ষদ আরও জানায়, পবিত্র মসজিদে ১১৮টি দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন ওমরাহযাত্রী ও মুসল্লিরা। এর মধ্যে তিনটি দরজা দিয়ে শুধু ওমরাহযাত্রী এবং ৬৮টি দরজা দিয়ে মুসল্লিরা প্রবেশ করেন। আর জরুরি পরিস্থিতির জন্য ৫০টি দরজা ব্যবহৃত ও অভ্যন্তরে ৪০টি দরজাও ব্যবহৃত হয়। আগত মুসল্লিদের ভিড়, নিরাপত্তা স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পবিত্র মসজিদে হারামে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ। এ ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

এর আগে গত শনিবার রমজান মাসের ২৫তম রাতে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি উপস্থিত হয়েছিলেন। পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর মসজিদুল হারামে এটিই সর্বোচ্চসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি বলে মনে করা হয়।

অপরদিকে মদিনার মসজিদে নববিতেও শবেকদরে মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল। সামনের কাতারে জায়গা পেতে এখানেও ফজরের পর আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে মুসল্লিরা মসজিদের নববির প্রাঙ্গণ, ছাদ ছাড়িয়ে আশপাশ এলাকায় দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নেন।

জেরুজালেমের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অব ওয়াকফ কাউন্সিল জানায়, শবেদকদরে ইসরায়েলি সেনাদের তীব্র বাধা উপেক্ষা করে মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে আসেন ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম নগরীর মুসল্লিরা। এসব এলাকার মুসল্লিদের ওপর মসজিদে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। তার পরও শবেকদরে মসজিদে আকসা প্রাঙ্গণে নামাজ পড়েছেন আড়াই লাখের বেশি মুসল্লি।

মসজিদে আকসার খতিব শায়খ আজ্জাম আল খতিব বলেন, রমজানের ২৭তম রাতে মসজিদে আকসায় অসংখ্য মুসল্লি উপস্থিত হয়েছেন। মসজিদ প্রাঙ্গণে তিল ধারণেরও জায়গা ছিল না। অনেক মুসল্লি সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই নামাজ পড়তে বাধ্য হন। নারী মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে তাদের জন্যও নামাজের পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না।

এ সময় মসজিদে আগত মুসল্লিদের শৃঙ্খলা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করে জেরুজালেমের ওয়াকফ কাউন্সিলের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দল। মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে ইফতার হিসেবে খেজুর ও পানীয় বিতরণ করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠন।

মসজিদুল আকসায় পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। নির্দেশনা অনুসারে ৫৫ বছরের কম বয়সী পুরুষদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তা ছাড়া সব বয়সের নারী, ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, ১২ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেদের জেরুজালেমে প্রবেশে অনুমোদন দেওয়া হয়।