পথচারীদের জন্য ইফতার

‘ইফতারের সময় হয়েছে, যারা ইফতার করবেন- চলে আসেন আমাদের কাছে।’ এভাবেই রাস্তায় চলাচলরত মানুষদের ইফতারের জন্য ডাকছিলেন একদল যুবক। তাদের আহ্বানে কেউ কেউ ইফতার সামগ্রী নিয়ে ফুটপাতে বসে পড়েন। ইফতারের আয়োজনে রয়েছে ছোলা, পেঁয়াজু, জিলাপি, বেগুনি, তরমুজ, কলা, মুড়ি ও শরবতসহ পরিচিত প্রায় সব কিছুই। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের রেলগেটে ইফতারের আগ মুহূর্তে তরুণরা কেউ ইফতার প্রস্তুত করছেন, কেউ শরবত তৈরি করছেন, আবার কেউ পথচারীদের ডেকে বসানোর জন্য কাজ করছেন।

পথচারী শামীম হোসেন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার অফিস গুলশানে, অফিস শেষে যানজটের কারণে যথাসময়ে বাসায় যেতে পারি না। প্রায়ই রাস্তায় ইফতার করতে হয়। তবে, বেশ কয়েকদিন হলো আমি এখানে ইফতার করছি। তাদের আয়েজনটি দারুণ।’ রিকশাচালক শফিক দীর্ঘদিন উত্তরা এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, ‘রিকশা চালায়ে ইফতার কিনে খাওয়া খুব কঠিন, এখানে প্রতিদিন ইফতার করা জন্য বলছে- তাই ইফতার করি।’ রমজান মাস হচ্ছে- অল্প ইবাদত করে অধিক সওয়াব অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। এমন সুযোগ হাতছাড়া করা মোটেই উচিত নয়। বিশেষত রমজানে রোজাদারকে ইফতার করানো একটি বড় সওয়াবের কাজ। সওয়ারের উদ্দেশ্য ও আল্লাহকে খুশির জন্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন একজন শিক্ষক। নিজেকে প্রচারের আলোয় আনতে চান না। তার সঙ্গে একটি টিম কাজ করছে, তারা প্রতিদিন ৩৫-৪০ জন্য ইফতার আয়োজন করেন।

ইফতারের আয়োজক ওই শিক্ষক প্রতি বছর বাসার কাজের লোক ও গেটম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ইফতার করতেন। এবার তিনি পথচারীদের নিয়ে সওয়াবের অংশীদার হওয়ার জন্য পথচারীদের ইফতার করানোর সিদ্ধান্ত নেন। আয়োজনটি হয় উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টর রেলগেট এলাকায় তার বাসার পাশে। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তার বন্ধু ও ছাত্ররা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

পথচারী ইফতার আয়োজনের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ খালিদ বলেন, ‘রমজানে ইফতার ও সাহরির সময় মানুষকে খাওয়াতে পারলে সওয়াব। দয়াময় আল্লাহকে রাজি-খুশির জন্য আমি এ আয়োজন করে যাচ্ছি। আমরা সবাই ভালো কাজ করতে চাই। তবে ভালো কাজগুলো ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে করলে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ আর থাকবে না।’