সংকটের সময়ে কীভাবে মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হয়, তা বেশ ভালোভাবেই জানে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। কখনো কখনো পণ্যমূল্য বাড়িয়ে কিংবা অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা করে এসব কোম্পানি। মুনাফা বাড়াতে এমন পদ্ধতিই ব্যবহার করেছে বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ। চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৭ শতাংশ।
রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পণ্য বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ। কিন্তু উৎপাদন বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। অবশ্য চলতি প্রথম প্রান্তিকে মোট আয় সামান্য বাড়লেও পরিচালন ব্যয় কমিয়ে নিট মুনাফায় বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে কোম্পানিটি।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয় ১৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে পণ্য উৎপাদনে ব্যয় হয় ৭২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এতে করে চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের মোট আয় দাঁড়ায় ৬৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল্প মূলধনী এ কোম্পানিটির মোট আয়ে তেমন প্রবৃদ্ধি না হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় বিশেষ করে বিপণন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে। নিট মুনাফা বাড়ার এটিই প্রধান কারণ বলে রেকিট বেনকিজার জানিয়েছে।
চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির নিট পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের প্রশাসনিক ব্যয় উল্টো বেড়েছে। এ সময় প্রশাসনিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। তবে এ সময়ে বিপণন, বিক্রি ও বিতরণ ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ সময় মূলত বিপণন ব্যয় ব্যাপক হারে কমায় পরিচালন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের বিপণন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় কমেছে ৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বা ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। একই সময়ে বিক্রি ও বিতরণ ব্যয় ৭ শতাংশ কমে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকায় নেমেছে।
প্রশাসনিক, বিক্রি, বিতরণ, বিপণন ও রয়্যালটি ব্যয় সমন্বয়ের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা ছিল ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে রেকিট বেনকিজারের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। এ সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ১৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ২৫ পয়সা।
স্বল্প মূলধনী কোম্পানি রেকিট বেনকিজারের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে মাত্র ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৮২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। শেয়ার সংখ্যা কম ও ইপিএস বেশি থাকায় এ কোম্পানির শেয়ার দর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবচেয়ে বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার দর কেনাবেচা হয় ৪ হাজার ৪৬০ টাকা দরে।