আজ ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সালের এই দিনে ঢাকার সাভারে ধসে পড়ে রানা প্লাজা ভবন। থেমে যায় অনেক সংগ্রামী জীবন। হতাহত পরিবারের ওপর নেমে আসে দুর্দশা। বহুল আলোচিত সেই ঘটনার দশ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে আজ। কিন্তু গাইবান্ধায় পুনর্বাসনে অগ্রগতি না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
গাইবান্ধা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সাভারে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় কর্মরত গাইবান্ধা জেলার ৪৯ জন নারী ও পুরুষ নিহত হন। আহত হন শতাধিক ও নিখোঁজ হন ১১ জন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পরিবারপ্রতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা অনুদান দেন। যা তিন দফায় নিহতদের পরিবারকে দেওয়া হয়। এরপর বিগত বছরে কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে রোবরার (২৩ এপ্রিল) গিয়ে দেখা যায় হতাহত পরিবারগুলোর করুণ দৃশ্য। প্রিয়জনদের স্মৃতি বুকে আঁকড়ে বেঁচে আছেন অনেকেই। ভবন ধসে বাম পা হারান জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদারপুর গ্রামের সোনিয়া আক্তার (৩৬)। জীবিকার তাগিদে গিয়েছিলেন ঢাকায়। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, দেখতেই পারছেন পরিবারের করুণ অবস্থা। রানা প্লাজা ভবন ধসে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে। ওই সময় যে অনুদান পেয়েছি। পরবর্তীতে ১০ বছর চলে গেলো। পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জোটেনি কপালে কোনো অনুদান, এমনকি কেউ খোঁজও নিতে আসেনি। এক ছেলে, এক মেয়ে। স্বামীর একা আয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। তার স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরাতে চাকরি করতে গিয়ে স্ত্রী পা হারায়। এখন স্ত্রী নিজেই ঠিকভাবে চলতে পারে না, কাজ করবে কিভাবে? যাদের কারণে স্ত্রী পা হারিয়েছে তাদের আমরা বিচার চাই।
একই উপজেলার কিশামত হলদিয়া গ্রামের স্মৃতি রাণী (২৬) ভবন ধসে নিহত হন। রাণীর পরিবার জানায়, অনেক চেষ্টার পর তার লাশ খুঁজে পায় পরিবার। পরিবারকে সুখে রাখতেই চাকরিতে গিয়েছিলেন তিনি। ফিরেছেন লাশ হয়ে। অনুদানের পর পুনর্বাসন ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা দিলেও আজও তা সম্পন্ন হয়নি।
দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামের সোনা মিয়ার স্ত্রী কামনা বেগম (২৪) ও আবদুল বারীর মেয়ে বিথী আকতার (২২) রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় নিখোঁজ হন। ১০ বছরেও খোঁজ মেলেনি তাদের। তাদের পরিবার কেমন আছে কেউ একদিন খোঁজ পযর্ন্ত নিতে আসেনি বলে জানান তারা।
একই গ্রামের শ্রমজীবী ওয়াহেদ আলীর ছেলে সবুজ মিয়া (১৯)। ভবন ধসের ১৬ দিন পর সন্ধান পায় পরিবার। প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়ার ১০ বছর চলে গেলো, এরমধ্যে কোনো অনুদান পায়নি পরিবারটি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সাতগিরি গ্রামের লাভলী আকতার (২৭)। ভবন ধসে বাম পা হারান তিনি। বাড়িতে এসে নিজের ছোট্ট একটা দোকান দেন। কিছুদিন পর মুলধনের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় সেটি। সরকার পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুত দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মিয়া বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ওই সময় হতাহতের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনা আমরা পায়নি।