গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরিবের গোশত সমিতির টাকাসহ হিসাবরক্ষক উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই টাকা ও হিসাবরক্ষকের কোনো খোঁজ মেলেনি। ফলে এবারের ঈদে গরুর মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন গোশত সমিতির সদস্য ৭০টি পরিবার। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমিতির সদস্যসহ স্থানীয়রা।
ওই সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটার সর্বশেষ পর্যায়ে সাধ্যের মধ্যে একটু মাংস কেনার লক্ষ থাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর। এ জন্য কালিয়াকৈরের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ গড়ে তুলেছেন গোশত সমিতি। সমিতিটি এখন ‘গরিবের গোশত সমিতি’ নামেই বেশি পরিচিত।
উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় ৭০ জন সদস্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল গোশত সমিতি। সমিতি পরিচালনা করার জন্য মৌখিকভাবে সভাপতি-সম্পাদকসহ হিসাবরক্ষক বানান সদস্যরা। ওই সমিতির হিসাবরক্ষক ছিলেন পাইকপাড়া এলাকার রাহাজ উদ্দিনের ছেলে মোস্তফা। তিনি সারা বছর সদস্যদের কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫০ থেকে ১০০ করে সঞ্চয়ের টাকা তোলেন। এভাবে বছর শেষে তার কাছে ওই সমিতির প্রায় ২ লাখ টাকার ওপরে জমা হয়। ঈদের আগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সমিতির সদস্যরা ওই জমানো টাকা দিয়ে গরু কেনার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ঈদের পাঁচ দিন আগে সমিতির খাতাপত্র নিয়ে হিসাবরক্ষক মোস্তফা বাড়ি থেকে উধাও হন। ফলে এবার ঈদে গরুর মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছে গোশত সমিতির সদস্য ৭০টি পরিবার। এ কারণে তাদের ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে যায়।
ওই সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, ‘গোশত সমিতির টাকা নিয়ে হিসাবরক্ষক মোস্তফা উধাও হওয়ায় ঈদে গরুর মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছে আমাদের সদস্য ৭০টি পরিবার। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। তার আশ্বাসে আমরা এখনো থানায় যাইনি।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান সেতু বলেন, ‘গরিব লোকজন মিলে এই গোশত সমিতি করে। কিন্তু টাকাসহ হিসাবরক্ষক উধাও হয়ে যাওয়ায় ঈদে মাংস পাননি তারা। ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। ওই সমিতির সদস্যদের লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’