মুম্বাই ইন্ডাস্ট্রিতে শুধু অভিনয়ের জোরে যে’কজন সাফল্য ও জনপ্রিয়তা দুটোই লাভ করেছেন, তাদের একজন ইরফান খান। ২০২০ সালের আজকের এই দিনে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মারা যান তিনি।
রাজস্থানের টঙ্ক শহরে ১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন ইরফান খান। শৈশবে অন্য সবার মতো তিনিও ক্রিকেট খেলতেন। তবে সবার মতো সাধারণ নয়, তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। ফলে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ক্রিকেটার হওয়ার। ভারতের প্রথম সারির ক্রিকেটার তৈরির অন্যতম টুর্নামেন্ট ‘সিকে নাইড়ু ট্রফি’তে সুযোগ পেয়েছিলেন ইরফান। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, যাতায়াতের ভাড়ার অভাবে তিনি খেলতে যেতে পারেননি। সেই সাময়িক অভাব যেন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ইরফানের এক আত্মীয় যোধপুরে থিয়েটারে কাজ করতেন। তার সুবাদে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় কিশোর ইরফানের। এরপর তিনি এমএ শেষ করে ১৯৮৪ সালে ভর্তি হন দিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’য়। এখান থেকেই শুরু হয় তার অভিনয় জীবনের নতুন অধ্যায়। মুম্বাইয়ের মতো শহরে টিকে থাকার জন্য তাই কিছু দিন এয়ার কন্ডিশনার মেরামতের কাজ করেছেন ইরফান। পাশাপাশি স্টুডিও পাড়ায় ধন্না দিতেন সুযোগের জন্য।
সুযোগটা আসে ১৯৮৭ সালে। মিরা নায়ের নির্মিত ‘সালাম বম্বে’ সিনেমায় ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন ইরফান খান। এরপর কিছু টিভি সিরিয়ালেও সুযোগ মেলে। কিন্তু মুখ্য চরিত্রের সিনেমা যেন ধরা দিচ্ছিল না। লম্বা সময় ধরে চেষ্টার পালে হাওয়া দিয়ে যান ইরফান। ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মকবুল’ সিনেমায় তার অভিনয় আলাদাভাবে নজরে আসে দর্শক-সমালোচকের।
তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে ইরফান প্রথম অভিনয় করেন ২০০৫ সালের ‘রগ’ ছবিতে। এটি বেশ প্রশংসাও পায়। এরপর থেকে ইরফানের পরিচিতি, জনপ্রিয়তার গল্প বড় হতে থাকে। ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘পান সিং তোমার’, ‘দ্য লাঞ্চবক্স’, ‘পিকু’, ‘তালভার’, ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’, ‘হায়দার’, ‘হিন্দি মিডিয়াম’, ‘আংরেজি মিডিয়াম’র মতো সিনেমায় সাবলীল অভিনয়ে তিনি মুগ্ধতার চিরন্তন মশাল জ্বালিয়েছেন। এছাড়া হলিউডে তিনি ‘লাইফ অব পাই’, ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’, ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ ও ‘ইনফারনো’ ছবিতে অভিনয় করেও সমাদৃত হয়েছেন।
বিশ্ব সিনেমার অন্যতম সু-অভিনেতা বিবেচনা করা হয় ইরফান খানকে। একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি ফিল্মফেয়ারসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ অর্জন করেছিলেন ২০১১ সালে।