ঐতিহ্যগতভাবে প্রাচীন রোমে পুরুষ গ্ল্যাডিয়েটরদের মল্লযুদ্ধ করতে দেখা যায়। তবে বিরল হলেও সে সময়ে নারী গ্ল্যাডিয়েটরদেরও অস্তিত্ব ছিল। গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স নামের এই যোদ্ধারা পুরুষদের সমকক্ষ হয়ে একে অপরের সঙ্গে বা বন্যপ্রাণীর সঙ্গে লড়াই করে দর্শকদের বিনোদন দিতেন। লিখেছেন নাসরিন শওকত
প্রাচীন রোম
খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীর শুরু দিকের কথা। তখন প্রচীন রোম ইতালির টাইবার নদী তীরের ছোট্ট একটি শহর থেকে এক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। বিশাল এই সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে মহাদেশীয় ইউরোপ, ব্রিটেন, পশ্চিম এশিয়ার বেশিরভাগ অংশ, উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বিস্তৃত ছিল। রোমান এই আধিপত্যের অনেক উত্তরাধিকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লাতিন থেকে পাওয়া রোমান ভাষার (ইতালি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ এবং রোমানিয়ান) ব্যাপক ব্যবহার এবং সেই সঙ্গে আধুনিক পশ্চিমা বর্ণমালা, ক্যালেন্ডার এবং খ্রিস্টধর্মের উত্থান। সাড়ে চারশ’ বছর প্রজাতন্ত্র থাকা রোম জুলিয়াস সিজারের উত্থানের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যে পরিণত হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে এর পতন ঘটে। বিশাল এই সাম্রাজ্যের প্রাথমিক পর্যায়ে সম্রাট অগাস্টাসের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এর স্বর্ণযুগের শুরু হয় এবং খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, যাকে মানব সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্ত পরিণতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের ভূমিকা
প্রাচীন রোমে গ্ল্যাডিয়েটরিয়াল (মল্লযুদ্ধ) লড়াই বেশ জনপ্রিয় ছিল, যার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে রোমান সাম্রাজ্যে। সমাজের দরিদ্রতম সদস্য থেকে সম্রাট পর্যন্ত সবাই এতে অংশগ্রহণ করতেন। তখন এ লড়াইয়ে অংশ নেওয়া পুরুষদের বলা হতো ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ (মল্লযোদ্ধা)। আর নারীদের ডাকা হতো ‘গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স’ (লাতিন এই শব্দের অর্থ নারীযোদ্ধারা) বলে। তখন অস্ত্র ও যুদ্ধের কৌশলের ওপর ভিত্তি করে গ্ল্যাডিয়েটরদের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হতো। সে সময় তাদের মধ্যে অনেকেই বেশ খ্যাতিও অর্জন করেন।
প্রাচীন রোমে খুব কমই গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন রোমানরা লড়াইয়ে উদ্ভট ও নিষ্ঠুর কৌশলের সঙ্গে সঙ্গে অভিনবত্বও পছন্দ করত। আর এই তিনটি বৈশিষ্ট্যকেই ধারণ করতেন ‘গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স’রা। যারা প্রাচীন রোমান সমাজের অন্য নারীদের থেকে সম্পূর্ণই আলাদা ছিলেন। কারণ রক্ষণশীল ফ্যাশনে অভ্যস্ত এই নারীদের তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষদের মতো পোশাক পরতে ও আচরণ করতে হতো। সে সময়ের শিল্পকলা, আইন ও লিখিত বিবরণগুলোতে প্রমাণ রয়েছে যে, রোমান প্রজাতন্ত্রের শেষ দিকে ও সাম্রাজ্যের প্রথম দিকে খেলা হিসেবে প্রচলিত নৃশংস এই লড়াইয়ে নারীরাও অংশ নিতেন। তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে লড়াই করে অন্যদের বিনোদন দিতেন। কিন্তু তারা তখন পুরুষদের সমকক্ষ লড়াই করতেন না। ওই লড়াইয়ে বেশিরভাগ সময়ই নতুন কায়দাকানুনকে ঘিরে তাদের লড়াই চলত। ফলে রোমান প্রজাতন্ত্রের শেষের দিকে এসে ‘গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স’রা ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
তবে লিখিত ইতিহাসে প্রাচীন রোমের গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের অসংখ্য বিবরণ পাওয়া যায়। সে সময়ের ঐতিহাসিকরা খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর নারীদের বর্ণনায় বলেছেন, তারা সাধারণ রাতের খাবারের পর পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া করতেন। আবার সম্রাট নিরো, টাইটাস ও ডোমিশিয়ান আয়োজিত খেলায় গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের পশু, বামন ও চশমাপরা অন্য নারীদের সঙ্গে লড়াই করার বর্ণনা পাওয়া যায়। তখনকার সমৃদ্ধ শহর পম্পেইতেও গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের লড়াই করার কথা জানা যায়। আবার বন্দর নগরী ওস্তিয়াতে একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। যেখানে স্থানীয় এক ম্যাজিস্ট্রেটকে নগরটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রথম হিসেবে ‘নারীদের হাতে তলোয়ার তুলে দেওয়ার’ জন্য বেশ গর্ব করতে দেখা যায়।
অভিজাত পরিবার থেকে আসা
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসিকের অধ্যাপক ডেভিড এস পটার বলেছেন, প্রাচীন রোমে সব শ্রেণি-পেশার নারীরাই মল্লযুদ্ধের লড়াইয়ে অংশ নিতেন। তবে এদের মধ্যে কিছু গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স ছিলেন, যারা অভিজাত পরিবার থেকে আসেন। ক্রীতদাস নারীরা সাধারণত ধনী পরিবারগুলোতে কাজ করতেন। আবার দেখা যেত, কোনো উদ্যোক্তা মালিক এ লড়াইয়ের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই নিজের ফায়দা লোটার ধান্দা করতেন। প্রাচীন খেলাধুলার ওপর অসংখ্য বই লিখেছেন অধ্যাপক পটার। সে সময়ের ওই উদ্যোক্তা মালিকদের মানসিক অবস্থার কথা জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘তুমি শক্তিশালী হলে এসো গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স হিসেবে তোমাকে প্রশিক্ষণ দিই। তাহলে লড়াইয়ে অংশ নিয়ে তুমি অনেক অর্থ উপার্জন করেতে পারবে। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত তরুণ যুবকরা যে কারণে তখন লড়াই করতেন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমাজের নারীরাও ঠিক একই কারণে সে সময় লড়াই করতেন। ওই লড়াই ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ও ভিন্ন ধরনের, যা গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের বাবা-মাকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলত।’
অধ্যাপক পটার বলেন, সে সময়ে নারীরা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যে খেলার পুরস্কারও হতো নানা আকৃতির। রোমান কর্মকর্তারা তখন গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের লড়াইয়ে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন, যাতে তারা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন। বিত্তশালী নারীরা লড়াইয়ের জন্য অবসর সময়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারতেন। তখন পেশাদার মল্লযুদ্ধ দলের ম্যানেজাররা যারা কুস্তিতে পারদর্শী ছিলেন, তাদের এ লড়াইয়ে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন। কারণ এ লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে একইসঙ্গে খ্যাতি ও অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ ছিল।
শিল্পকর্মে প্রমাণ
প্রাচীন রোমান সমাজের গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের একটিই মাত্র শিল্পকর্ম এখনো অক্ষত রয়েছে। এটি বর্তমানে ব্রিটিশ জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। হ্যালিকারনাসাসে পাওয়া (বর্তমানের তুরস্ক) প্রাচীন মার্বেল পাথরে নির্মিত ওই শিল্পনিদর্শনটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, সুরক্ষা বুট পায়ে ঢাল ও তলোয়ার হাতে দুই নারী লড়াই করছেন। পাথরের শিলালিপির ওই দুই নারীকে অ্যামাজোনিয়া ও অ্যাকিলিয়া নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, সম্ভবত গ্রিক পৌরাণিক কাহিনি স্মরণ করতেই ওই লড়াইয়ের এমন নামকরণ করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপরে থাকা একটি শিলালিপির বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায় যে, তারা একটি সম্মানজনক ড্রয়ের জন্য লড়াই করছিলেন।
প-িতরা বলেছেন, গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের আরও কিছু শিল্পকর্ম রয়েছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হয়তো ভুল ব্যাখার শিকার হয়েছে।
তবে সবাইকে চমকে দেওয়া আবিষ্কারগুলোর একটি ছিল ১৯৯৬ সালে লন্ডন জাদুঘরের প্রতœতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। লন্ডনের সাউথওয়ার্ক পৌরসভার রোমান যুগের একটি সমাধিস্থলের ছাইয়ের মধ্য থেকে নারীমূর্তির নিচের অংশের একটি খ- উদ্ধার করেন তারা । এর সঙ্গে সেখানে নানা অলংকার সামগ্রী ও জমকালো ভোজের ফেলে রাখা অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। যা দেখে অনুমান করা হয় যে, কোনো গ্ল্যাডিয়েটরের সমাধিস্থল ছিল সেটি। এ প্রসঙ্গে লন্ডন জাদুঘরের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসের কিউরেটর জেনি হল বলেছিলেন, ‘৭০ ভাগ সম্ভাবনা’ রয়েছে যে মৃত ওই ব্যক্তি একজন গ্ল্যাডিয়েট্রিক্স। তবে কিছু সংশয়বাদীর ধারণা, গ্রেট ডোভার স্ট্রিটের ওই নারী সম্ভবত কোনো একজন গ্ল্যাডিয়েটরের স্ত্রী, মেয়েবন্ধু নয়তো ভক্ত হয়ে থাকতে পারেন।
মল্লযুদ্ধের ঐতিহ্য
প্রাচীন রোমের গ্ল্যাডিয়েটরদের মল্লযুদ্ধের লড়াই করার অনেক জীবন্ত প্রমাণ রয়েছে। যারা প্রায় এক হাজার বছর ধরে রোমান সাম্রাজ্যজুড়ে লড়াই করেছে। এই লড়াই পশ্চিম এশিয়া থেকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে শুধুমাত্র রোমেই অভিজাত ও উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক পরিবারগুলোর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে পালা করে মল্লযুদ্ধের লড়াই শুরু হয়। জানা যায়, ৬৫ খিস্ট্রপূর্বাব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার তার বাবার দীর্ঘ সময় ধরে রাখা মরদেহের প্রতি সম্মান জানাতে ৩২০ জোড়া গ্ল্যাডিয়েটর দিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। সাধারণত ওই লড়াইগুলো রক্তক্ষয়ী হলেও সে সময়ের গ্ল্যাডিয়েটরদের শক্তি ও বীরত্বেও আদর্শ হিসেবে দেখা হতো। যাতে তারা ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া জনতাকে রোমের প্রতি অনেক বেশি আনুগত্য প্রকাশে অনুপ্রাণিত করতে পারেন। এর মধ্যে আবার ক্রীতদাস বা যুদ্ধবন্দি অনেক গ্ল্যাডিয়েটর ছিলেন। এছাড়াও স্বাধীন ও বয়সে তরুণ অনেকে গ্ল্যাডিয়েটরই খ্যাতি ও ভাগ্য ফেরানোর আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মল্লযুদ্ধে অংশ নিতেন। এর মধ্যে জনপ্রিয় গ্ল্যাডিয়েটদের যৌনতার প্রতীক হিসেবে সম্মান করা হতো। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো ছিল বড়। লড়াইয়ের আয়োজকরা সাধারণত পেশাদার ম্যানেজারদের কাছ থেকে গ্ল্যাডিয়েটরদেরও পুরো দলকে ভাড়া করতেন। তারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে পারিশ্রমিক ভাগ করে নিতেন। তবে ক্রীতদাস গ্ল্যাডিয়েটররা সাধারণত বেশ কয়েকটি সফল লড়াইয়ে জিতে তার মুক্তি কিনে নিতে পারতেন।
অভিনব কৌশল
সে সময়ে মল্লযুদ্ধের প্রতিযোগিতাগুলোতে আসা দর্শকরা লড়াইয়ে নানা অভিনব কৌশল দেখার প্রত্যাশা করতেন। এ কারণেই আয়োজকরাও যোদ্ধাদের লড়াইয়ে অদ্ভুত ও উদ্ভট সব কৌশল দেখানোর প্রস্তাব করতেন। গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদেরও একে অপরের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে ওইসব কৌশল অনুসরণ করতে হতো। রোমান ইতিহাসবিদ ক্যাসিয়াস ডিও’র মতে, ৫৯ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট নিরো সে সময়ের সবচেয়ে লজ্জাজনক ও মর্মান্তিক এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, যেখানে শুধুমাত্র (মধ্যবিত্ত পরিবারের) পুরুষ ও নারীই নয়, সিনেটরদের মধ্য থেকেও অনেকে গ্ল্যাডিয়েটর হিসেবে ঘোড়া চালিয়ে লড়াই করতে গিয়ে বন্য পশুদের হত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আবার অনেকে অনিচ্ছায় এই নির্দেশ মানতে বাধ্য হতেন। জানা যায়, ৬৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট নিরো তার মায়ের সম্মানে (যাকে পরে তিনি হত্যা করেন) গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের নিয়ে আরেকটি লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। ক্যাসিয়াস ডিও এবং আরেক রোমান ইতিহাসবিদ সুয়েটোনিয়ামেসর মতে, সম্রাাট ডোমিটিয়ান রাতের বেলায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে মল্লযুদ্ধের আয়োজন করতেন। সেসব লড়াইয়ে কখনো কখনো বামনদের পাশাপাশি গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদেরকেও একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতেন তিনি।
সমাজচিন্তা ও বিতর্ক
ঐতিহ্যগতভাবে প্রাচীন রোমের নারীরা বাড়ির মধ্যে রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করতেন ও বিনয়ী পোশাক পরতেন। তখন পর্যন্তও রোমান সমাজ মল্লযুদ্ধে বিবাহিত নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি ছোট চোখে দেখত। তাই গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদের মল্লযুদ্ধে যেভাবে উপস্থাপন করা হতো, তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। তখন কটি পরে খালি বুকে লড়াইয়ে অংশ নিতেন তারা । সে সময় পুরুষ গ্ল্যাডিয়েটরদের মতো একই অস্ত্র, বর্ম ও ঢালও ব্যবহার করতেন । আবার তাদেরকে কখনো কখনো শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষ এবং বন্য শূকর ও সিংহের সঙ্গে লড়াই করতেও দেখা যায়।
এদিকে রোমান সিনেট ২২ ও ১৯ খ্রিস্টাব্দে সমাজের মধ্য ও উচ্চবিত্তের নারীদের গ্ল্যাডিয়েটরিয়ালে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে। তখন থেকে পরবর্তী দুই শতাব্দী পর্যন্ত উচ্চবংশের নারীদের এই লড়াই চালিয়ে যেতে দেখা যায়। এই গ্ল্যাডিয়েট্রিক্সদেরকে অবমাননার হাত থেকে বাঁচাতে ২০০ খ্রিস্টাব্দে সম্্রাট সেপ্টিমিয়াস সেভেরাস মল্লযুদ্ধের সব প্রতিযোগিতায় নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন। তখন একদিকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রসার ও অন্যদিকে পশ্চিম রোমান সাম্রাজ্যের পতনের ফলে এই লড়াই মঞ্চস্থ করা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে পঞ্চম শতাব্দীতে এসে গ্ল্যাডিয়েটরদের প্রতি রোমানদের উন্মাদনা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।