‘সারা জীবন আমি বয়স গুনি নাই, গুনছি ব্লেসিংস! আজ আমার ৫০তম জন্মদিনে এসে তাই পেছন ফিরে নিজেকে একজন কৃতজ্ঞ মানুষই মনে হচ্ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ
পৃথিবী নামের এই গ্রহে এক চমৎকার জার্নির জন্য আমাকে নির্বাচিত করার জন্য। আমার জার্নিটা অন্য আরও কোটি রকম হতে পারত! হতে পারতাম কীর্তনখোলা নদীর পাড়ের এক উদাসী রাখাল। কিংবা যাত্রা প্যান্ডেলের টিকিট চেকার। অথবা কোনো এক নির্জন স্কটিশ গ্রামের পাইপার। এর কোনোটাই ভালো বা খারাপ বলছি না। বলছি এই যে বাংলাদেশের একজন গল্পকথক হইছি, হয়ে আমার সময়টাকে গল্পে ধরার চেষ্টা করছি, করতে গিয়ে কত মানুষের ভালোবাসা পাইছি, কত মানুষের সাথে কত ব্রিজ তৈরি করছি, এই সবই একেকটা ব্লেসিংস। তিশার মতো একজন সঙ্গী পাইছি এই জার্নিতে, ইলহামের মতো একটা বেহেশতের টুকরা পাইছি। আমি তার কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করব?’
আজ পিছনে ফিরে ভাবি, আমি যখন ছবি বানাতে শুরু করি, তখন যেসব রাস্তায় আমি হাঁটা ধরছিলাম, আমি তো পথ হারায়ে ঝরে যেতে পারতাম আরও এক স্বপ্নবান তরুণ হিসেবে। কত ঝড় গেছিল, ভাষার ঝড়, অভিনয়ের ঝড়, এমনকি বিষয়ের ঝড়ও। আজকের সময়ে বসে হয়তো বোঝা যাবে না একসময় ন্যাচারাল অভিনয় করাতে চাওয়াটা কত ‘আন-ন্যাচারাল’ ছিল, স্বাভাবিক সংলাপ লেখাটাও কত বড় অপরাধ ছিল! আজকের বাংলাদেশি ভিজুয়াল ল্যান্ডস্কেপের দিকে তাকালে সেই সব দিন অবিশ্বাস্যই মনে হয়।
হয়তো করা যেত আরও অনেক কিছুই, আরও অনেক বেটার কিছু, কিন্তু আজকের এই দিনে এসে অপ্রাপ্তির দিকে তাকাইতে চাই না। কারণ যখনই গুনতে বসবেন, জীবনে প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তি বেশিই হবে। গুনতে চাই তাই ব্লেসিংস! জীবনের দুই-তৃতীয়াংশ পার করে দিয়েছি! ট্রেন যতদূর যাবে, চাইব সেটা যেন মিনিংফুল জার্নি হয় আরও।
নতুন নতুন গল্পে দেখতে চাইব সময়টাকে! আর হ্যাঁ, এমনও হইতে পারে, ছবি বানানোর পাশাপাশি দেখতে পারেন নতুন কোনো ভূমিকায়ও। কারণ জীবন শুরু হতে পারে ফিফটিতেও।
সবাই ভালো থাকবেন। ভালোবাসবেন সবাইকে। গভীরে নামলে দেখবেন, মানুষে মানুষে ঘৃণার আসলে কোনো গভীর কারণই নাই। আমাদের এইসব পার্থক্য সব ওপরের, সকলই কসমেটিক।’
গত মঙ্গলবার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ৫০তম জন্মদিন। বিশেষ এই ক্ষণে স্ত্রী তিশা ও কন্যা ইলহামের সঙ্গে কেক কাটার ছবি দিয়ে মনের অনুভূতিগুলো এভাবেই প্রকাশ করেছেন তিনি। পোস্টের কমেন্ট বক্স ভরে উঠেছে অনেক ভক্ত দর্শকের শুভ কামনায়।