পুলিশের অন্যান্য সংস্থা বছরের পর বছর যেসব জটিল মামলার কিনারা করতে পারছে না পুলিশেরই বিশেষায়িত আরেক সংস্থা পিবিআই ওইসব মামলার রহস্য ভেদ করছে। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজকুমার মজুমদার
দেশ রূপান্তর : পিবিআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর মামলা রহস্য উদঘাটন করছে যা অন্যরা পারছে না। এর পেছনে কারণ কী?
বনজ কুমার মজুমদার : জটিল মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে পিবিআই একটি টিম করে দেয়। এটি আমাদের বিধির মধ্যে আছে। ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় অনেকে রেসপনসিবল (দায়বদ্ধ) হয়ে যায়।
এছাড়া যখন কিছু মামলা বহু কষ্ট করে ডিটেকশন করি, তখন এর ওপর আমরা বিশ্লেষণ করি। এভাবে ডিটেকশন না হলে অন্য কীভাবে হতো। এ বিষয় নিয়ে আমরা একটি প্রেজেন্টেশন করি ওই তদন্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে। সেখানে বিভিন্ন ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তারা আসেন। যেমন : ঢাকা জেলার তদন্ত কর্মকর্তারা চলে যান বগুড়া। সেখানে, বগুড়া, নাটোর ও নওগাঁর তদন্ত কর্মকর্তারা আসেন। সেখানে দুটি করে কেস স্টাডি (মামলা) নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করি। সেখানে একই মামলা অন্যরা কীভাবে ডিটেক্ট করত, এর চেয়ে আরও ভালোভাবে ডিটেক্ট করা যেত কিনা, আমি কেন আগে পারিনি, আমি কেন সন্দেহ করলাম সব বিষয় আলোচনা হয়। অর্থাৎ তদন্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্ত করেছে একজন আর অভিজ্ঞতা যেন শেয়ার করে সবাই। অন্য তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন আর কীভাবে সমাধান মিলত। ফলে পিবিআইয়ে কোনো জটিল মামলা এলে তদন্ত কর্মকর্তা আর ভয় পান না। তারা বিশ্বাস করেন একদিন না একদিন উদঘাটন হবেই।
দেশ রূপান্তর : ২০১২ সালে পিবিআই প্রতিষ্ঠার পর বড় সাফল্য কোনটি?
বনজ কুমার : রাজধানীর রমনা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী সগিরা মোর্শেদ হত্যাকাণ্ডের ৩০ বছর পর সেই মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পিবিআই। ১৬ ফুট মাটির নিচে গুম করা লাশ তুলেছে, ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা বা সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখ থাকা অনেক ঘটনার তদন্তে নেমে পিবিআই উদঘাটন করছে সেটি ছিল হত্যাকাণ্ড। এমন আরও কয়েকটি মামলার কথাও বলা যায়।
দেশ রূপান্তর : তদন্তের ক্ষেত্রে কী ধরনের সাপোর্ট পায় পিবিআই?
বনজ কুমার : একজন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা ওসি যে ক্ষমতা পান আমাদেরও তাই। কিন্তু আমি এই ক্ষমতাটি প্রয়োগ করি না। কারণ শুরু থেকেই কনফার্ম (নিশ্চিত) না হলে, কাউকে গ্রেপ্তার করে না পিবিআই, সেক্ষেত্রে মামলা ডিটেক্ট করুক আর না করুক। যে কারণে আমাদের একটি দুর্নাম আছে, কাউকে ধরলে আর ছাড়তে পারি না। কারণ তার সমস্ত কিছু নিয়েই আমরা ধরি। ফলে আমাদের হাতে আটক আসামিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার প্রবণতা বেশি।
দেশ রূপান্তর : পিবিআই সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গায় আসছে বলে মনে করেন কিনা, আর সংস্থাটি চালাতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন কি?
বনজ কুমার : পিবিআই আস্থার জায়গাতে আসছে কি না জানি না, এটা খুব জটিল জিনিস। মানুষ একটি তদন্ত পিবিআইকে দিয়ে সেইফ (নিরাপদ) অনুভব করবে এই পর্যায়ে আমরা এখনো আসিনি। আমাদের অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে। কিন্তু আমরা বলছি চেষ্টাটাই আসল, আমরা আস্থা অর্জনে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর সবই তো চ্যালেঞ্জ। সবখানেই চাপ আসছে। তবে সেটি মিনিমাইজ করা হয়েছে।