গুয়াতেমালায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে রাজধানীর অদূরের খামার ও শহরগুলোর ওপর ছাইয়ের ঘন মেঘ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এক হাজারের বেশি লোককে সরিয়ে নিয়েছে গুয়াতেমালা কর্তৃপক্ষ এবং একটি রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে।
নাগরিক সুরক্ষা কর্মকর্তা অস্কার কসিও বলেন, আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছের পাঁচটি সম্প্রদায় থেকে এক হাজার ৫৪ জনকে সরিয়ে আশ্রয়ের জন্য একটি স্পোর্টস হলে রাখা হয়েছে। স্থানান্তরিতদের সংখ্যা বাড়তে পারে।
গুয়াতেমালার কনরেড বিপর্যয় কেন্দ্র বলেছে, ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির প্রবাহ গ্যাস, ছাই এবং পাথরের টুকরার একটি উচ্চ-তাপমাত্রার মিশ্রণ আগ্নেয়গিরির কমপ্লেক্সের পাশে প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসে। ফুয়েগোর নির্গত ছাই কলাম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার মিটার উপরে পৌঁছেছে।
কনরেড জানায়, রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি থেকে উত্তর-পূর্বে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আগ্নেয়গিরির পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ছাই ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্চ স্তরের অগ্ন্যুৎপাত অব্যাহত থাকায় আরও শক্তিশালী নির্গমন হতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রটি সতর্ক করেছে।
কনরেড কর্মকর্তা রডলফো গার্সিয়া অনুমান করেছেন, এক লাখ ৩০ হাজার লোক ছাইয়ের সংস্পর্শে থাকা অঞ্চলগুলোর মধ্যে বাস করে। আগ্নেয়গিরি থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাই ছড়িয়ে পরেছে। তিনি বলেন, কাছাকাছি চারটি শহরে ৭ হাজার ৬০০ জনকে আশ্রয় দিতে সক্ষম ১৩টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খবর বাসসের।
অপরদিকে দেশটির প্রধান পর্যটন আকর্ষণ এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসহ ঔপনিবেশিক অ্যান্টিগুয়ার বেশ কয়েকটি নগরীর সাথে সংযোগকারী আগ্নেয়গিরির ঢালের আরএন-১৪ রুটটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছাইয়ের মেঘের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের কর্তৃপক্ষের যেকোনো সতর্কতার নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে এবং স্থানীয় ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির চারপাশে সাত কিলোমিটারের সীমাবদ্ধ এলাকা এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছে।
গত ডিসেম্বরে একই আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের লাভা ও ছাইয়ের নিঃসরণের কারণে গুয়াতেমালা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তিন হাজার ৭৬৩ মিটার লম্বা আগ্নেয়গিরিটি গড়ে প্রতি চার থেকে পাঁচ বছর পর অগ্নুৎপাত ঘটায়।
২০১৮ সালে একটি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে লাভার নদীগুলো সান মিগুয়েল লস লোটেস গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেলে গ্রামটিকে ধ্বংস করে। এতে ২১৫ জনকে মারা যায় এবং অনুরূপ সংখ্যক নিখোঁজ হয়। গুয়াতেমালার পশ্চিমে সান্তিয়াগুইটো এবং দক্ষিণে প্যাকায় নামে আরও দুটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।