নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্টিল মিলে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন জুয়েল (২৫) ও গোলাম রব্বানী রাব্বী (২২)। এ নিয়ে এই ঘটনাটিতে মারা গেলেন সাতজনের ছয়জনই। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন ইব্রাহিম নামে একজন।
আজ শনিবার (৬ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান জুয়েল। আর শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে মারা যান রাব্বী।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, জুয়েলের শরীরে ৯৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। চিকিৎসাধীন আজ বিকেলে তার মৃত্যু হয়েছে। আর রাব্বীর ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
মৃত জুয়েলের চাচাতো ভাই মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, জুয়েলের বাবার নাম লাবু মিয়া। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করিয়াইল গ্রামে। ১ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি। বর্তমানে রূপগঞ্জের গাউছিয়া গুপতা এলাকায় থাকতেন। ১ বছর যাবৎ ওই স্টিল মিলটিতে শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন। বিস্ফোরণে তার সমস্ত শরীর পুড়ে গিয়েছিল।
আর গোলাম রব্বানি রাব্বীর দুলাভাই আলআমিন জানান, লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ফাটুরবাজার গ্রামে তার বাড়ি। বর্তমানে রূপগঞ্জ ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় থাকতেন রাব্বী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ওই কারখানায় চার মাস ধরে কাজ করতেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (০৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার গাউছিয়া সাউঘাট এলাকার আরআইসিএল স্টিল মিল-এ লোহা গলানোর ভাট্টিতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে গলিত তরল লোহা শ্রমিকদের ওপর ছিটকে পড়লে গুরুতর দগ্ধ হন সাতজন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান শংকর নামে একজন। আর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মারা যান ইলিয়াস। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নিয়ন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আলমগীর মারা যান।
বর্তমানে ২৮ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ইব্রাহিম ভর্তি আছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
কারখানাটির সুপারভাজার হারুন অর রশিদ জানান, তারা কারখানায় ভাট্টিতে লোহা গলানোর কাজ করছিলেন। ভাট্টির আশপাশে ১৫-১৬ জন শ্রমিকে ছিলেন। হঠাৎ করেই ভাট্টিতে বিস্ফোরণ হয়ে গলিত লোহা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তারা দগ্ধ হন। উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।