খাগড়াছড়িতে সোলার প্যানেল বিতরণে দুর্নীতি

খাগড়াছড়িতে ৯৫৪টি সোলার প্যানেল বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (৭ মে) এইচ এম আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি এই অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নে বিনামূল্যের ৯৫৪টি সোলার প্যানেল পেতে সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। বাটনাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহিম, ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কালাম আজাদ, ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আদৌ মার্মা ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মংপাইপ্রু মার্মা, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আবদুল মমিন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মানিক ত্রিপুরা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মহরম আলীসহ আরও কয়েকজন ৯৫৪টি সোলার প্যানেল দেয়ার নামে সুবিধাভোগী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আদায় করেছেন।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ৯৫৪ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া হয়। এরপর গত ২১ মার্চ বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম চৌধুরী বাটনাতলী ইউনিয়নে সোলার প্যানেল বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে যান। তখনই জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। সেখানে উপস্থিত সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা এবং ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম চৌধুরীর কাছে স্বীকার করেন। পরে সোলার প্যানেল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দিয়ে নতুন করে তালিকা করতে বলা হয়। বর্তমানে সোলার প্যানেলগুলো বাটনাতলী ইউনিয়নের ছদুরখীল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেঝেতে পড়ে আছে। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা আর্থিক দুর্নীতির দায় থেকে রক্ষা পেতে মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার দ্বারস্থ হয়েছেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাটনাতলী ইউনিয়ন এলাকার জন্য ৯৫৪টি সোলার প্যানেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ নম্বর ওর্য়াডে ৬৪টি, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩৯টি, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৬৯টি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮৩টি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪৫টি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৪টি।