বরুড়ায় মাঠে ছাত্রলীগ, ঘরে কৃষকলীগ

শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কেটে বাড়িতে তুলতে পারছেন না কুমিল্লা জেলার বরুড়ার কৃষকরা। ফলে তারা স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতা চান।

কৃষকদের অনুরোধে উপজেলা ছাত্রলীগ ধান কাটতে মাঠে নামলেও খবর নেই কৃষক লীগের।

স্থানীয় সুশীল সমাজের কয়েকজন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কার্যক্রমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করায় কৃষক লীগের ভূমিকা থাকা উচিত। কিন্তু বরুড়াতে কৃষকের পাশে কৃষক লীগকে দেখা যাচ্ছে না। তাহলে তাদের কাজ কি?

জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বরুড়ার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেদের ধান কেটে দিচ্ছেন। ছাত্রলীগ গত কয়েকদিনে বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। যতদিন ধান কাটা সিজন শেষ হবে না ততদিন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান ছাত্রলীগ নেতারা।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মোস্তফা বলেন, আমি অসুস্থ। আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।

এদিকে বরুড়া উপজেলা ও ইউনিয়নের ১৫/২০ জন নেতা-কর্মী মিলে, মাথায় গামছা বেঁধে, হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে নেমেছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। তাদের এ উদ্যোগে সহযোগিতা করছেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান শাহীন।

কৃষক নরেন্দ্র কুমার বলেন, আমার ৪০ শতক জমির পাকা ধান কাটতে না পেরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রনি মিয়াজীর সাথে যোগাযোগ করি। তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে আমার ধান কেটে বাড়িতে তোলে দেন।

ধান কাটতে আসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বরুড়ার এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুলের নির্দেশনায় আমরা ইউনিয়ন ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে অসহায় কৃষকের পাকা ধান কেটে দিচ্ছি। শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসহায় কৃষকরা। আমরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান শাহীন বলেন, আমাদের এমপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কোন অসহায় কৃষক ধান কেটে দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।