ঢাকার সাভারে অস্ত্র ঠেকিয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার আরেক ব্যবসায়ীর দোকান দখল করে সংগঠনের কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুম দেওয়ানের বিরুদ্ধে। সাভার পৌর এলাকার গে-া গাবতলা পুকুরপাড় মহল্লার ওই দোকানটি তিন বছর আগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে ভাড়া নেন মাসুম দেওয়ান। এরপর সেটিকে পৌর ছাত্রলীগের কার্যালয় বানিয়ে ব্যবহার করতে থাকলেও গত তিন বছরে ভাড়ার একটি টাকাও পরিশোধ করেননি। উল্টো ভাড়া চাইলে মাসুম নানা হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর।
এদিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় গত শনিবার ব্যবসায়ী ইউনুস আলী চুন্নু ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা লুটের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মামলাটি হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাশিদ। সাভার পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম দেওয়ান ওরফে মুরগি মাসুমকে প্রধান আসামি করে মামলটি করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চুন্ন মিয়া। তবে হামলার ওই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভুক্তভোগীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ছাড়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে বলেও প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর রাশিদ বলেন, ‘চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
দোকান দখল করে ছাত্রলীগ কার্যালয় : ছাত্রলীগ নেতা মাসুম দেওয়ানের বিরুদ্ধে দোকান করে ছাত্রলীগ কার্যালয় বানানোর অভিযোগ করেছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র দাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দোকান করার জন্য পাশের মার্কেট মালিক এনায়েতুর রহমানের কাছ থেকে ১০ বছর আগে আমার এবং আমার ছোট ভাই দীপক চন্দ্র দাসের নামে ৫২ পয়েন্ট জমি কিনি। পরে সেখানে একটি দোকান তৈরি করি। তিন বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা মাসুম দেওয়ান জমিটি ভাড়া নেওয়ার জন্য আসে। কিন্তু আমি নিজে দোকান করব বিধায় প্রথমে তাকে ভাড়া দিতে চাইনি। তারপরও সে বিভিন্নভাবে আমাকে চাপ প্রয়োগ করে এবং মাসিক ২৫০০ টাকা ভাড়া দেবে বলে জোর করে দোকানটি দখল করে অফিস বানায়। তার সঙ্গে আমার কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি, মৌখিকভাবে দোকানটি ভাড়া নিলেও গত তিন বছরে আমাকে একটি টাকাও ভাড়া দেয়নি। উল্টো আমি ভাড়া চাইলে কাগজপত্র নিয়ে তার কাছে যাওয়ার কথা বলে।’
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, ‘যদি রাস্তায় আমার ওপর হামলা করে সেই ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। তবে যেহেতু মাসুম দেওয়ান উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব ভাইয়ের লোক, তাই বিষয়টি আমি আগে ভাইকে জানাব। যদি ভাই আমাকে দয়া করে দোকানটি বুঝিয়ে দেন তাহলেই আমি খুশি।’
দোকান দখলের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাসুম দেওয়ানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।