রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা ও ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি খানিকটা বেকায়দায় আছে। প্রবাসী আয়, রিজার্ভ, রপ্তানি আয়, রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুখবর নেই। অর্থ জোগাড়ে ঋণদানকারী সংস্থার বিভিন্ন শর্ত মেনে সরকার ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এসব শর্ত আগামী বাজেটে অন্তর্ভুক্তির অঙ্গীকার রয়েছে। রাজস্ব সংস্কারসহ শর্তের অর্ধেক বাস্তবায়ন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ মানুষ আরও চাপে পড়বে। অথচ জাতীয় নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট হওয়ায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে জনগণকে খুশি করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শেষ বাজেট অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গিয়েছে। এবারই প্রথম বাজেট বক্তৃতা অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আগামী বাজেট নিয়ে গাউডলাইন দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ গাইডলাইন সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকেও মতামত নিয়েছে। ঋণদানকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া সব শর্ত বাস্তবায়ন করা হবে এমন অঙ্গীকার করেই ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছে সরকার। এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা না হলে ঋণের পরের কিস্তি ছাড় করা হবে না বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। আর তাই এবারের বাজেট প্রস্তাব প্রণয়নে আইএমএফের দেওয়া শর্তের কতটা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এসব বৈঠকে পাওয়া সব মতামত, সুপারিশ ও পরামর্শ যোগ-বিয়োগ করে হিসাব কষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেটের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চলতি সপ্তাহেই উপস্থাপন করা হবে। এই রূপরেখা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর চেয়ারম্যান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ বাজেট প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আলোচনায় বসবেন। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে কিছু যোগ বা বাদ দেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর চূড়ান্ত রূপরেখা বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাজেটের আকার : অর্থ মন্ত্রণালয়ের রূপরেখায় আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা নির্র্ধারণ করা হয়েছে। এখানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা, ঘাটতি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং সুদ পরিশোধে ব্যয় ১ লাখ ২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার ধরে নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তকে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ থাকবে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করা। আইএমএফের শর্ত মেনে রাজস্ব আদায় বাড়ানোও সরকারের জন্য আরেক চ্যালেঞ্জ। কারণ রাজস্ব আদায় করতে হলে জনগণের ওপর চাপ বাড়বে। এতে নির্বাচনের আগের শেষ বাজেট হওয়ায় জনতুষ্টির পরিবর্তে সমলোচনার মুখে পড়তে পারে। তাই আসছে বাজেট সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জের।
রূপরেখায়, আগামী অর্থবছরে বাজেট প্রস্তাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভাতা এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব আছে। ২৪ লাখ সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কথাও আছে।
রাজস্ব আদায় : অর্থবছর শেষ হতে এখনো এক মাস বাকি। এরই মধ্যে এনবিআরের ঘাটতি ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এমন প্রেক্ষাপটেও আইএমএফের চাপে এনবিআরকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। যা চলতিবারের চেয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এনবিআর স্বাভাবিকভাবে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে, আইএমএফ আগামী অর্থবছরে (২০২৩-২৪) তার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করার শর্ত দিয়েছে। আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে আগামী অর্থবছরে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির অতিরিক্ত অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক-কর আদায় করতে হবে। গত ৫০ বছরে দুইশোর বেশি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছাড় দেওয়া হয়েছে। আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে এর বেশির ভাগই বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপণ্যসহ অনেক জিনিসের দাম বাড়বে। এছাড়া কর অবকাশ সুবিধা কমানো, রাজস্ব আদায়ে কঠোর আইনি প্রয়োগ ও প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন ২০ লাখ কর দাতা চিহ্নিত এবং নতুন ১৫টি কর অঞ্চল করারও শর্ত মানার চেষ্টা করা হয়েছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বড় অঙ্কের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও বড় হবে। তবে বৈশ্বিক মন্দায় তা কতটা বাস্তব তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
ভ্যাটের আওতা : কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা সেবা খাতে কোনো ভ্যাট নেই। অর্থাৎ জিডিপির ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ অবদান রাখে, এমন খাতগুলোর ওপর ভ্যাট আরোপ হয় না। জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান প্রায় ২৩ শতাংশ। সেখানেও প্রায় অর্ধেক খাতের ওপর ভ্যাট নেই। যেমন রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার, লিফট, মোটরগাড়ি, মোবাইল ফোন, গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আছে। এ ছাড়া এনবিআরের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ৫০ ধরনের সেবায়ও ভ্যাট নেই। আসছে বারে আইএমএফের চাপে এসব খাতের বেশির ভাগের ওপর থেকে ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে এসব খাতের পণ্যের দাম বাড়বে।
করমুক্ত আয়সীমা : বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী মাসে প্রকৃত আয় ২৫ হাজার টাকার বেশি হলেই একজন ব্যক্তিকে বছর শেষে কর দিতে হয়। না হলে জেল-জরিমানা। গত মাস ছয়েক ধরে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৮/৯ শতাংশের ঘরে। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছ থেকে করমুক্ত আয় সীমা বাড়ানোর ব্যাপক চাপ এসেছে। করদাতা হারানোর ভয়ে এনবিআর এ হার বাড়াতে আপত্তি জানিয়েছে। করদাতা কমাতে চায় না আইএমএফও। কিন্তু অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে খুশি রাখতে এটি বাড়িয়ে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব রূপরেখায় রেখেছেন।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তুষ্টির চেষ্টা : অর্থ মন্ত্রণালয়ের রূপরেখায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী বাজেটে ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়া যেতে পারে বলে বলা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বেতন-ভাতা খাতে ৭৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের হিসাব করা হলেও মহার্ঘ্য ভাতা খাতে কোনো বরাদ্দ এখনো রাখা হয়নি। মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এ হিসাব আরও বাড়বে।
করপোরেট করহার : করপোরেট কর থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রাজস্ব আদায় করে এনবিআর। এবারে বাংলাদেশ সফরে আসা আইএমএফ প্রতিনিধিদল এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সব খাতে করপোরেট কর বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এনবিআরও তাতে রাজি। তবে ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক মন্দায় করপোরেট করহার বাড়াতে একেবারেই রাজি নয়। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ক্ষেত্রে সাড়ে ২২ শতাংশ, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তামাকজাতীয় কোম্পানি, মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির করপোরেট কর সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ।
ভর্তুকি : বছর বছর ভর্তুকি বাড়ানোর ধারা থেকে সরে আসার চাপ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির সন্তুষ্টিতে এরই মধ্যে দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। জুনের মধ্যে বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানোর চাপ দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির চাপ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের আগের বাজেট হওয়ায় এবং বৈশ্বিক মন্দার কারণে আগামী অর্থবছরে ভর্তর্ুুকি না কমিয়ে বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে খাদ্য, কৃষি ও বিদ্যুতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পরিমাণ এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। যা চলতিবারের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে বিদ্যুতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ২৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্যে ৮ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা, রপ্তানি প্রণোদনা, রেমিট্যান্স, পাটজাত দ্রব্যাদিসহ অন্যান্য খাতে ৪৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে।
এমপিওভুক্তি : নির্বাচনী আগের শেষ বাজেট হওয়ায় আগামীতে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ছিল নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ও সংসদ সদস্যদের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে এবারও ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কালো টাকা সাদা : প্রতি বছরের মতো এবারেও অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার স্থায়ী ধারা বহাল রেখে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা অর্থ মন্ত্রণালয়ে রূপরেখায় রাখা হয়নি। এনবিআর তাতে সম্মতি জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নির্বাচনের আগের বাজেট হওয়ায় এ বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে আইএমএফ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখার ঘোর আপত্তি জানিয়েছে।
ই-টিআইএন : আগামী বাজেটে করদাতার ই-টিআইএন না থাকলে অনেক সুবিধা না পাওয়ায় বিষয়ে কঠোরতা আনা হচ্ছে। বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত কাগজপত্র সংগ্রহ, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা জমি কিনতে, গাড়ি এবং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র নবায়ন করতে, যে কোনো ব্যবসায়ে লাইসেন্স পাওয়া বা নবায়নে, বাড়ির গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি সংযোগে, জাতীয় সংসদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্র পরিচালিত যে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে, হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্মাণে, নতুন শিল্প স্থাপন, ঠিকাদারি ব্যবসা করতে অর্থবিলে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক থাকছে। অধিক মূল্যের সোনা, মুক্তা বা মূল্যবান গহনাসহ যে কোনো কেনাকাটা করতে, উচ্চ বেতনের চাকরিতে যোগদান করতে, ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রী পড়ানোসহ প্রায় শতাধিক কাজে ই-টিআইএন ব্যবহারের বিধান থাকবে।
সারচার্জ : বেশি সম্পদ থাকলে নিয়মিত করের বাইরে সারচার্জ দিতে হয়। আগামী বাজেটে এনবিআর সারচার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির তিন কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ থাকলে, কিংবা নিজ নামে একাধিক গাড়ি থাকলে বা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮ হাজার বর্গফুটের অধিক আয়তনের হাউজ প্রোপার্টি থাকলে তাকে ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। ধাপে ধাপে বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার ওপরে সম্পদের জন্য ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। নতুন প্রস্তাবনায় সব স্ল্যাবেই ৫ থেকে ১০ শতাংশ হার বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে এনবিআর। আইএমএফ থেকেও একই সুপারিশ করেছে। তবে এ হার না বাড়ানোর ব্যাপক চাপ আছে দেশের অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে।