নতুন মেরুকরণের ছোঁয়া ইউরোপে

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া দ্বন্দ্বের প্রভাব দেখা যাচ্ছে সমগ্র বিশ্বে, বিশেষ করে ইউরোপে। বদলে যাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোর এতদিনের নিরপেক্ষ-শান্তিপূর্ণ অবস্থান। ইতিমধ্যে ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোটে যোগ দিয়েই দেশটি আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেরুকরণের হাওয়া লেগেছে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে। দেশটি শান্তিকামী ও নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত। এমনকি ইউরোপের দেশ হয়েও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়! বিশ্বে নানা সময় পক্ষাবলম্বনের পরীক্ষা এলেও সুইজারল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে এসেছে। কিন্তু এবার ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চলতে থাকা সবচেয়ে বড় যুদ্ধে শান্তিকামী সুইজারল্যান্ডও যেন বদলে গেল। সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া শুরু করল দেশটি। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তায় ক্রমাগত অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকায় এ মহড়া চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধে সরাসরি ইউক্রেনকে সহায়তা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।

মহড়ার নাটকীয় বর্ণনা দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কমান্ডো কৌশলে শত্রুর সীমানায় ঢুকে পড়েছে সুইজারল্যান্ডের সেনাবাহিনী। ছোড়া হচ্ছে একের পর এক গ্রেনেড ও গোলা। এভাবেই ডামি বানিয়ে সুইজারল্যান্ডের সেনাবাহিনী সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। বিগত তিন দশকের মধ্য সবচেয়ে বড় এ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

জেনেভা ক্যান্টনের নিরাপত্তা, জনসংখ্যা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা স্টেট কাউন্সিলর মারিয়া পোগিয়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এ মহড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধরত কোনো দেশে সামরিক সহায়তার বিষয়ে নাগরিকদের মতবিরোধ রয়েছে। তবে, নিপীড়িত মানুষের জন্য নিজেদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া কখনো ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে না।’

এদিকে ইউরোপে বাড়তে থাকা পশ্চিমা প্রভাবে চুপচাপ বসে নেই রাশিয়া। প্রভাব বিস্তারে মনোযোগী মস্কোও। যার ফলাফল দেখা গেল সেøাভাকিয়ায়। গত ৭ মে সেøাভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড হেগার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে সেøাভাকিয়াকে প্রতিবেশী ইউক্রেনের শক্তিশালী সমর্থকের ভূমিকায় দেখা গেছে। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের অনুরোধে তড়িঘড়ি সাড়া দিয়েছিল হেগারের সরকার। হেগারের পদত্যাগের পর সেপ্টেম্বরে দেশটিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আর তাতে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর ডানপন্থি স্মেয়ার-এসডি পার্টির। ফিকো প্রকাশ্যে ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। এমনকি এ যুদ্ধের জন্য ‘ইউক্রেনের ফ্যাসিস্টদের’ দায়ী করেছেন তিনি।