চট্টগ্রামে চলন্ত লরি থেকে কনটেইনার ছিটকে পড়ে রিকশা আরোহী বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় কনটেইনারের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন রিকশার চালক। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ইপিজেড থানার স্টিলমিল বাজারের খালপাড় রোডের সামনে বিমানবন্দর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মো. ইউনুছ মিঝি (৫৯) ও তার ছেলে আবদুর রহিম মিঝি (৩০)। তাদের বাড়ি চাঁদপুরে। নিহত ইউনুছ মিঝি খাদ্য বিভাগের অধীন চট্টগ্রামের সাইলো অপারেটিং জেটিতে কর্মরত ছিলেন।
কনটেইনারের চাপায় আহত রিকশাচালক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা জানান, পণ্যবোঝাই কনটেইনার নিয়ে একটি লরি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নগরীর পতেঙ্গা থানার কাটগড় এলাকায় এসএপিএল কনটেইনার ডিপোতে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে লরিটি এগিয়ে যাওয়ার সময় স্টিলমিল বাজারের খালপাড় রোডের সামনে মূল সড়কে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচে একটি কনটেইনার ছিটকে পড়ে যায়। এ সময় কনটেইনারটির নিচে চাপা পড়ে সড়কে চলাচলরত একটি রিকশা। ওই রিকশার আরোহী ছিলেন ইউনুছ ও তার ছেলে আবদুর রহিম। রিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। কনটেইনারের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় মারা যান বাবা ও ছেলে। আর রিকশাচালক লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও গুরুতর আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মালেক জানান, দুর্ঘটনার পর বেলা ১টার দিকে নৌবাহিনীর ক্রেনের সাহায্যে কনটেইনারের নিচে চাপা পড়া রিকশার আরোহী বাবা-ছেলেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের সহকারী কমিশনার শাকিলা সোলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পতেঙ্গা থানার সামনে দিয়ে কনটেইনারবাহী লরিটি কাটগড়ের দিকে যাচ্ছিল। দড়ি ছিঁড়ে লরি থেকে কনটেইনারটি ছিটকে একটি রিকশার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলে মারা যান। লরিটি জব্দ করে এর চালককে আটক করা হয়েছে। লরিতে কনটেইনার লোহার শেকল দিয়ে বাঁধা থাকে। ধারণা করছি, এটি ভালোভাবে আটকানো ছিল না। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
বাউফলে বাবার ট্রলির চাকায় পিষ্ট ছেলে : পটুয়াখালীর বাউফলে বাবার চালানো ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ইয়ামিন হোসেন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বগা-কাছিপাড়া সড়কের হোগলা দীনিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইয়ামিন ওই মাদ্রাসাটির প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে হোগলা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। জাকির হোসেন পেশায় ট্রলিচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল ছিল কোরআন শিক্ষার মৌখিক পরীক্ষা। বেলা ১১টার দিকে ইয়ামিন পরীক্ষা শেষে মাদ্রাসা থেকে বের হলে তার বাবার সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় বাবা জাকির হোসেন ছেলেকে দেখে গাড়িতে তুলে নেন। পরে মাদ্রাসার অদূরেই ট্রলিটির বাম পাশের সামনের চাকা সড়কের খাদে পড়ে গেলে ছিটকে পড়ে ইয়ামিন। কিন্তু জাকির হোসেন ছেলের পড়ে যাওয়া খেয়াল না করে ট্রলি সামনের দিকে টান দিলে পেছনের চাকায় পিষ্ট হয় ইয়ামিন। পরে উদ্ধার করে বগা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের এমন মৃত্যুতে পাগলপ্রায় ইয়ামিনের বাবা জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে ইয়ামিন সবার ছোট। ছেলেটি রোদের মধ্যে এই গরমে হেঁটে বাড়ি যাবে এই ভেবে ওকে আমি গাড়িতে তুলি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে কী হতে কী হয়ে গেল। আমার ছেলের মৃত্যু আমার হাতেই হয়ে গেল।’
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি