‘এরদোয়ানের শাসনামলেই ঠিকাদাররা দুর্বল ভবন নির্মাণ করেছে’

তুরস্কে আগামীকাল রবিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কারণ দুই দশক ধরে তুরস্ককে নেতৃত্ব দেওয়া রক্ষণশীল রাজনীতিক রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান আরও পাঁচ বছরের জন্য তার ক্ষমতা সুরক্ষিত করতে চান।

এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদের জন্য এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বলা হচ্ছে, প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি।

৬৯ বছর বয়সী এই ক্যারিশমাটিক নেতার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিরোধী জোটের নেতা কামাল কিলিকদারোগ্লু। বিরোধী ছয় দলের সমন্বয়ে গড়া জোট ‘টেবিল এ্যান্ড সিক্সের’ প্রধান মুখ তিনি।

এবারের নির্বাচনে এরদোয়ান ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে জ্বালানি খাত ও পেনশনে ভতুর্কি এবং সরকারী কর্মীদের বেতন এবং নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবন যাত্রার ব্যয় কমানোর কথা বলেছেন তিনি । এছাড়াও প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতির ওপরও জোর দিয়েছেন।

রবিবারের এ নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে তুরস্ক। এমন নাজুক পরিস্থিতির জন্য ব্যাপকভাবে দায়ী করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের গৃহীত নীতিমালাকে।

এরই মধ্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের বিষয়। এ সময় তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবন নির্মাণের নীতি বাস্তবায়নের ব্যর্থতা এরদোয়ানকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলেছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর আন্তাকিয়া বিরোধী দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই শহরের বাসিন্দা ফুরকান ওজবিলগিন (২৯) বলেছেন, ‘তার (এরদোয়ান) শাসনামলেই ঠিকাদারদের এমন দুর্বল সব ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা ধসে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়।

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

১৯৭০-এর দশকে এরদোয়ানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। গুরু নেকমেতিন এরবাকানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা। ১৯৭৬ সালে ইস্তাম্বুলের বেয়োগলুর ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টির যুব শাখার প্রধান হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু তার। ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে রাজনৈতিক দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৩ ও ২০১৪ সালে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।