ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম

প্রতিটি শ্রেণিতেই বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ভাবসম্প্রসারণ লিখতে হয়। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীরা গৎবাঁধা কিছু ভাবসম্প্রসারণ মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করতে চায়। ফলে ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম থেকে যায় তাদের অধরা। ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম জানাচ্ছেন বিপুল জামান

ভাবসম্প্রসারণ

‘ভাবসম্প্রসারণ’ কথাটির অর্থ কোনো কবিতা বা গদ্যের অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করা, বিস্তারিত করে লেখা, বিশ্লেষণ করা। অনেক ছোট কথার মধ্যে বড় কথার ভাব লুকিয়ে থাকে। বিশেষ করে কবি-সাহিত্যিকদের গদ্য ও কবিতায় এমন কিছু তাৎপর্যময় গভীর উক্তি থাকে যা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বাক্যের ভেতরের এই ইঙ্গিতময় সূক্ষ্মভাব ও মর্মকথা সহজ-সরল ভাষায় বিস্তৃত আকারে প্রকাশ করার নামই ভাবসম্প্রসারণ।

সাধারণত কবিতা বা গদ্যের দু-একটি তাৎপর্যপূর্ণ বা ভাব ব্যঞ্জনাময় চরণ ভাব-সম্প্রসারণের জন্য দেওয়া হয়। এই ভাব ব্যঞ্জনায় লুকায়িত থাকে মানবজীবনের কোনো মহৎ আদর্শ কিংবা কোনো ব্যক্তিচরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা নৈতিক কোনো বিচ্যুতি। ভাব-সম্প্রসারণের সময় সেই গভীর ভাবটুকু উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় যুক্তি, বিশ্লেষণ, উপমা, উদাহরণ ইত্যাদির সাহায্যে সম্প্রসারণ করতে হবে। ভাব-সম্প্রসারণের জন্য প্রদত্ত কবিতা বা গদ্য অংশটি যেহেতু খুবই সংক্ষিপ্ত হয় তাই সতর্কতার সঙ্গে সেই মূল ভাবটিকে খুঁজে বের করে তাকে সম্প্রসারণ বা ব্যাখ্যা করতে হবে।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম

ভাবসম্প্রসারণ কথাটির অর্থ যেহেতু ভাবের সম্প্রসারণ বা বৃদ্ধি, তাই প্রয়োজনীয় উপমা বা দৃষ্টান্ত এবং যুক্তি দিয়ে বক্তব্য বিষয়কে সহজ-সরলভাবে উপস্থাপন করতে হবে। প্রাসঙ্গিক হলে ঐতিহাসিক পৌরাণিক বা বৈজ্ঞানিক তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় ভাবের সম্প্রসারণ বৃদ্ধি করতে হয় বলে বাহুল্য বর্জন করতে হবে অর্থাৎ অপরিহার্য কথা কিংবা একই কথার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। সম্প্রসারিত লেখার আয়তন হবে শ্রেণি ও প্রদত্ত নম্বরের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

প্রদত্ত চরণ বা গদ্যংশটি একাধিকবার মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। লক্ষ্য হবে প্রচ্ছন্ন বা অন্তর্নিহিত ভাবটি কী, তা সহজে অনুধাবন করা।

অন্তর্নিহিত মূলভাবটি কোনো উপমা, রূপক প্রতীকের আড়ালে নিহিত আছে কি না, তা বিশেষভাবে লক্ষ করতে হবে। মূলভাবটি যদি রূপক, প্রতীকের আড়ালে প্রচ্ছন্ন থাকে, তবে ভাবসম্প্রসারণের সময় প্রয়োজনে অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ যোগে ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।

সহজ ভাষায়, সংক্ষেপে ভাবসত্যটি উপস্থাপন করা উচিত। প্রয়োজনে যুক্তি উপস্থাপন করে তাৎপর্যটি ব্যাখ্যা করতে হবে।

মূলভাবটি বিশদ করার সময় সহায়ক দৃষ্টান্ত, প্রাসঙ্গিক তথ্য বা উদ্ধৃতি ব্যবহার করা চলে।

ভাবসম্প্রসারণ করার সময় মনে রাখতে হবে যে, যেন বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বারবার একই কথা লেখা ভাবসম্প্রসারণের ক্ষেত্রে দূষণীয়।

মূলভাবটি থেকে সম্প্রসারণটি যেন কোনো রকমে প্রসঙ্গচ্যুত না হয়।