আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিত্রনাট্য লেখা, সাংবাদিকতাসহ নানা সৃজনশীল কাজে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে, তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সংকটÑএ শঙ্কা এখন প্রকট এবং পুরনো। এখন দেখা যাচ্ছে কেবল ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানের আয়েও ভাগ বসাতে যাচ্ছে এআই, তবে এ জন্য মূল দায়ী হবে গুগল।
সম্প্রতি নতুন কিছু ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার কনফারেন্সে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (জেনারেটিভ এআই) জিমেইলের নতুন রাইটিং টুল এবং গুগল ম্যাপের ইমার্সিভ ডিরেকশনসহ আরও কিছু নতুন ফিচারের বিষয়ে জানিয়েছে গুগল। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে গুগল। আর এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে প্রকাশনা তথা অনলাইনে লিখিত কনটেন্ট প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কপালে। এমনিতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গ্রাহকদের ভিডিও দেখার নেশার কারণে অনলাইন আর্টিকেলনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্বের সংকটে আছে। এই পরিস্থিতিতে যদি গুগল এসব অনলাইনে প্রকাশিত আর্টিকেলের লিংক উপস্থাপনের বদলে গোটা লেখাই সহজভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়, তাহলে ধ্বংসের আর বাকি রইল কী!
আরেকটু সহজ করে বলা যাক, সাধারণত গুগলে মানুষ কোনো বিষয়ে কয়েক লাইন লিখে বা কেবল এক-দুই শব্দ লিখে কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে সার্চ দেয়। গুগল সম্পর্কিত বিষয়ে যত লেখা আছে বা অনলাইন আর্টিকেল আছে, সেগুলোর লিংক সার্চ করা ব্যক্তির সামনে হাজির করে। সেসব আর্টিকেল পড়ে গ্রাহক তার উদ্দেশ্য পূরণ করেন। এতে সেসব অনলাইন আর্টিকেল কোম্পানি ক্লিক, বিজ্ঞাপন এবং সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে আয় করতে পারে। কিন্তু গুগলের এআই যদি এক সার্চে মোটামুটি সহজ করে সব গড়গড়িয়ে বলে দেয় বা লিখে দেয়, তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানের পেটে লাথি পড়বে বলাটা অত্যুক্তি হবে না। নিউইয়র্ক টাইমস এবং ফোর্বস ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে বড় বড় সব অনলাইন প্রকাশনার পাশাপাশি স্বাধীন লেখক এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও এটাই সত্য এবং বাস্তবিক। মানুষ যেকোনো প্রশ্নের উত্তর যখন সহজেই গুগলের এআই ব্যবহারের মাধ্যমে পেয়ে যাবে, তখন অন্য ওয়েবসাইটে কম ঢুকবে।