সুজনে সন্তুষ্টি, লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও পঞ্চগড়-২ আসনে স্থানীয়ভাবে সব দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কম-বেশি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে দেশ রূপান্তর প্রার্থীদের অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও শক্তি-সামর্থ্যরে বিষয়টি তুলে আনার পাশাপাশি ওই আসনে ভোটের ফ্যাক্টরগুলো কী, তার একটি চিত্র সরেজমিনে ঘুরে জানার চেষ্টা করেছে।

এই আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও নানা বয়সী অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের দুই প্রতিবেদক। আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমর্থকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। কোনো দলের সক্রিয় কর্মী নন, এমন কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষও রয়েছেন তাদের মধ্যে।

দেবীগঞ্জের দেবীডুবা, চিলাহাটি ও বোদার সাকোয়া, মাড়িয়া ও চন্দনবাড়ি এলাকার দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ সবার একই কথা এ আসনে লড়াই করে জিততে হবে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীকে। অমুক জিতবেন এমন কথা আগে থেকে বলে দেওয়া যাবে না। তাদের দাবি, এ আসনের প্রতিটি ইউনিয়নে সংখ্যালঘু ভোট আছে। এই সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করে এই ভোটের ওপর। চাশিল্পের জন্য বিখ্যাত এই জেলায় ভাসমান ভোটারও অন্যতম ফ্যাক্টর।

১১টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল। অন্যদিকে বিএনপি বর্জন করেছিল ১৯৮৬, ৮৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচন।

২০০৮ সালে সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিএনপির মোজাহার হোসেনকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের তখনকার নতুন প্রার্থী নূরুল ইসলাম সুজন। তার কাছে ৫০ হাজার ৭৮৮ ভোটে পরাজিত হন কমিউনিস্ট পার্টির একসময়ের এমপি মোজাহার। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েও আরেকবার এমপি হয়েছিলেন মোজাহার।

অতীত অবস্থানের কথা বাদ দিলে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পঞ্চগড়-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুই দলই সমানে সমান। টানা তিনবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এমপি সুজন এই অঞ্চলে দলীয় শক্তি, নিজের অবস্থান অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষমতায় থাকলেই জনপ্রিয়তা কমে, সুজনের বেলায় সেটি সত্য প্রমাণ করা সহজ হবে না। প্রার্থী বদল না হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জেতার অবস্থায় আছে আওয়ামী লীগ। তবে এখানেও দলের মধ্যে অনৈক্য আছে। চোহাটি হাজারাডাঙ্গা ইউনিয়নের রাজনীতি সচেতন ৬৫ বছরের এক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, টানা ক্ষমতায় থাকা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিসহ নানা জাতীয় ইস্যুতে নির্মোহ বিচার-বিশ্লেষণ করলে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই এগিয়ে রাখতে হবে।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন আজাদ ও প্রয়াত এমপি মোজাহার হোসেনের ছেলে মাহমুদ হোসেন সুমন।

অন্যদিকে এই আসনে সুজনই এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহজাহান ম-ল মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।

দেবীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচনে ফ্যাক্টর দুটি। সংখ্যালঘু ও ভাসমান ভোট। দলের কর্মীদের প্রতি প্রার্থী কতটা নিবেদিতপ্রাণ, ব্যক্তিগত সামাজিক কর্মকা-ে প্রার্থীর উপস্থিতি, অর্থাৎ জনসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আমাদের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থীর কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।’

একটি উপজেলার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের পছন্দমতো প্রার্থী দিয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়েছেন। মূলত দলাদলিও তখন থেকে বেড়েছে। ত্যাগী অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ। দলের একটি অংশকে প্রাধান্য দেন। একটি গ্রুপকে নেতৃত্ব দেন, তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনরা; যা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ভালোভাবে নেননি।

দেবীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের বড় অংশ যেদিকে যায় জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারী হয়। মন্ত্রী হওয়ার পর সুজনের সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

কিছু লোকের জন্য আপনার কাজ যথেষ্ট ভালো হবে না আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, কিছু লোকের পক্ষে আপনার কাজ যথেষ্ট ভালো হবে না। তাদের তাদের মতো থাকতে দিন। আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য যা কিছু করার করুন। আপনার পক্ষে সম্ভব সেরাটি আপনি করুন এবং বাকিটা তাকে করতে দিন।

জিনিসগুলো কার্যকর হয়নি কারণ আমরা তার ঐশ্বরিক সুরক্ষার অধীনে ছিলাম। তবুও অর্ধেক সময় আমরা যা শেষ হয়ে গেছে তার জন্য হা-হুতাশ করি এবং মেনে নিতে অস্বীকার করি যে, তিনি আমাদের সর্বোত্তম স্বার্থে এটি করেছেন। তিনি সবসময়ই সেটি করেন।