মামলার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার দুই এসআই আবুল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম শহিদকে জেলার পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ মে) কাজিপুর থানার ওসি শ্যামল কুমার দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত ১৩ মে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লাভলু ইসলামকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের অভিযোগে তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়।
জানা যায়, এই ঘটনায় লাভলু সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে অনুলিপি দেন।
ব্যবসায়ী লাভলুর অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৩ মে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এসআই আবুল হোসেন ও শহিদুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে লাভলুর বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান। সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন স্থানীয় লোকজন উপস্থিতি ছিলেন। লাভলু অভিযানের কারণ জানতে চাইলে এসআই আবুল তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।
এরপর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চেক করতে হবে বলে তার হাতে হ্যান্ডকাফ পড়িয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তরে মহিষামুড়া চৌরাস্তা বাজারের মহিলা মাদ্রাসার পেছনে নিয়ে আটকে রাখেন। তার কাছে থাকা সিমেন্ট বিক্রির ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর তার চোখ বেঁধে তারা আরও ৩০হাজার টাকা দাবি করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে তারা তাকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান।
এরপর রতনকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য ওসমান গণি ও আব্দুস সাত্তারের উপস্থিতিতে এসআই আবুল ও শহিদুলকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে লাভলুকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।