তারকার স্ট্যাটাস

‘“জননী” মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত অরণ্য আনোয়ারের নাটক (দেড় দিনে নির্মিত)। শ্যুটিং শেষে আনোয়ার ভাই ফোন করে ভীষণ উত্তেজনা নিয়ে বললেন, “খান সাহেব! (সাধারণত তিনি আমাকে এভাবেই সম্বোধন করেন) তুমি এত ভালো করেছ! আমি তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না! আমি এটা সিনেমা বানাব, এটাই হবে আমার নির্মিত প্রথম সিনেমা এবং তুমি হবে আমার প্রথম সিনেমা “মা”র নায়িকা।” আমার ছবিই আমাকে ইনবক্সে পাঠিয়ে তিনি বললেন, “এই হলো আমার নায়িকার লুক, তৈরি হও।” তারপর প্রায় ছয় মাস ধরে আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে থাকি। ছয় মাসে অসংখ্য মিটিং-প্ল্যানিং, চরিত্র-চিত্রনাট্য-শ্যুটিং নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা। শ্যুটিং শুরুর ৭ দিন আগে জানলাম। রুনা খান “মা” হচ্ছেন না! “মা” হচ্ছেন পরীমণি! আমি সব সময় বলি, অভিনয়ের পথে আমি বড় একলা পথিক! ছয় মাস যে চরিত্র নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি, নিজেকে তৈরি করেছি, ভেবেছি, অপেক্ষা করেছি, ৭ দিন আগে সেই সিনেমা থেকে বাদ পড়ে কষ্ট পেয়েছি, আহত হয়েছি। তবে আমি এটাও বুঝি চলচ্চিত্রের বড় একটা দিক হচ্ছে বাণিজ্য। বাণিজ্যিক দিক চিন্তা করলে, একই চরিত্রের অপশন যখন রুনা খান নাকি পরীমণি, তখন আমি নিজেই বলব, পরীমণি। কারণ জনপ্রিয়তায় শুধু রুনা খান কেন, বাংলাদেশে খুব কম অভিনেত্রীই আছে পরীমণির ধারেকাছে! অভিমান ছিল! তবে আজ আনোয়ার ভাইয়ের সাক্ষাৎকার দেখে তা কেটে গেছে। শেষ পর্যন্ত আমি খুব প্রকৃতিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ। আমি বিশ্বাস করি প্রকৃতি আমার ভাগ্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছে তা কেউ আমার থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না! আর যা আমার কাছে থাকবে না, তা কখনো আমার ছিলই না! অরণ্য আনোয়ারের “জননী” আমি ছিলাম, “মা” আমি না। “মা” পরীমণি। ২০ তারিখে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হচ্ছে। “মা”র পরিচালক অরণ্য আনোয়ারসহ সবার প্রতি আমার ভালোবাসা, শুভকামনা। জয় হোক আমাদের চলচ্চিত্রের।’

অভিনেত্রী রুনা খান ‘মা’ সিনেমা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা এভাবেই ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন গত বৃহস্পতিবার।